ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

বেগমগঞ্জে দুই ভাইকে বাড়ি থেকে অপহরণ

মামলা হলেও অধরা মূল আসামিরা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

মামলা হলেও অধরা মূল আসামিরা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই ভাইকে নিজ বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরণের পর দীর্ঘদিন পার হলেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভিকটিমের পরিবার। ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতায় ভিকটিমদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মূল অপরাধীরা এখনো অধরা থাকায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের আটক করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভিকটিমের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


ঘটনার বিবরণ ও মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ থানাধীন ১৬ নং কাদিরপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কাদিরপুর গ্রামের (নাজির মিয়ার বাড়ী) মৃত একরামুল হকের ছেলে রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে হত্যার চেষ্টার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ২টা ৩০ ঘটিকায় জাহিদুল হক লিটন ও মোজাম্মেল হক টুটুলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই রনিকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।


অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে রফিকুল ও রনির মা মাহমুদা খাতুন তাৎক্ষণিকভাবে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। থানা পুলিশের তৎপরতায় অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ভাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই পুলিশ তখন আটক করতে পারেনি। উদ্ধারের সময় দুই ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় পুলিশ তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে ভিকটিমদের থানায় নিয়ে আসা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাতের গভীরতা বিবেচনা করে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন এবং পরদিন সকালে থানায় আসার নির্দেশ দেন।


চিকিৎসা শেষে পরের দিন অর্থাৎ ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টা ১৫ ঘটিকায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়, যার নম্বর ৪২। দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৬৫ ধারায় রুজু হওয়া এই মামলায় বাদী হয়েছেন ভিকটিমদের মা মাহমুদা খাতুন। মামলায় কাদিরপুর গ্রামের মাবাইদুল হকের দুই ছেলে জাহিদুল হক লিটন (৫০) ও মোজ্জাম্মেল হক টুটুল (৪৫), জাহিদুল হক লিটনের ছেলে মাহিন (২৫), এবং সেনবাগ উপজেলার দেবীসিংহপুর গ্রামের মোঃ আরিফ (৩৩)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


তথ্য অনুযায়ী, মামলা দায়েরের পর এবং পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস দিলেও আজ অবধি এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিরা এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে তাদের আটক করা যাচ্ছে না বলে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সব ধরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ভিশন বাংলা ২৪

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


মামলা হলেও অধরা মূল আসামিরা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই ভাইকে নিজ বাড়ি থেকে সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরণের পর দীর্ঘদিন পার হলেও মূল আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভিকটিমের পরিবার। ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতায় ভিকটিমদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মূল অপরাধীরা এখনো অধরা থাকায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের আটক করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভিকটিমের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


ঘটনার বিবরণ ও মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ থানাধীন ১৬ নং কাদিরপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কাদিরপুর গ্রামের (নাজির মিয়ার বাড়ী) মৃত একরামুল হকের ছেলে রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে হত্যার চেষ্টার একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ২টা ৩০ ঘটিকায় জাহিদুল হক লিটন ও মোজাম্মেল হক টুটুলের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই রনিকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।


অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। সন্তানদের জীবন বাঁচাতে রফিকুল ও রনির মা মাহমুদা খাতুন তাৎক্ষণিকভাবে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। থানা পুলিশের তৎপরতায় অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ভাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই পুলিশ তখন আটক করতে পারেনি। উদ্ধারের সময় দুই ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় পুলিশ তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে ভিকটিমদের থানায় নিয়ে আসা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাতের গভীরতা বিবেচনা করে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন এবং পরদিন সকালে থানায় আসার নির্দেশ দেন।


চিকিৎসা শেষে পরের দিন অর্থাৎ ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টা ১৫ ঘটিকায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়, যার নম্বর ৪২। দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৬৫ ধারায় রুজু হওয়া এই মামলায় বাদী হয়েছেন ভিকটিমদের মা মাহমুদা খাতুন। মামলায় কাদিরপুর গ্রামের মাবাইদুল হকের দুই ছেলে জাহিদুল হক লিটন (৫০) ও মোজ্জাম্মেল হক টুটুল (৪৫), জাহিদুল হক লিটনের ছেলে মাহিন (২৫), এবং সেনবাগ উপজেলার দেবীসিংহপুর গ্রামের মোঃ আরিফ (৩৩)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


তথ্য অনুযায়ী, মামলা দায়েরের পর এবং পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস দিলেও আজ অবধি এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিরা এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে তাদের আটক করা যাচ্ছে না বলে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সব ধরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত