জমি দখল ও পরিবার নিয়ে আতঙ্কে ভুক্তভোগী
নরসিংদীর বেলাবতে গাছ কেটে ঘরবাড়িতে হামলার অভিযোগ
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার সল্লাবাইদ ইউনিয়নের নিলক্ষা পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি পরিবারের পৈতৃক জমি দখল, গাছ কেটে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন এবং বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাইফুল হক সরকার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বেলাব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর কাইলকা প্রসাদ মৌজার আরএস ১৬০ নম্বর খতিয়ান ও ৪৭৩ নম্বর দাগের ১৯.২৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিক সাইফুল হক সরকার। প্রায় শতবর্ষ ধরে তারা ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।
ভুক্তভোগী সাইফুল হক সরকার জানান, গত ১৫ এপ্রিল বিকেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার মৃত হামিদ মিয়ার ছেলে আবু ছাত্তার (৩০), হোসেন মিয়া (২৭), মৃত সামসু উদ্দিনের ছেলে মো. শহিদ মিয়া (৫৭), অহিদ মিয়া (৬০), শহিদ মিয়ার ছেলে হিমেল (২৬) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া (২৭) দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোরপূর্বক তার জমিতে প্রবেশ করে। তারা সেখানে থাকা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ, ৫টি আমগাছ এবং একটি লেবু বাগান কেটে তছনছ করে। এতে তাদের প্রায় ৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।
গাছ কাটার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশের আয়োজন করা হলেও অভিযুক্তরা সালিশ-বিচার অমান্য করে চলে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও অভিযোগ করে, এরপর গত ১ মে সকালে অভিযুক্তরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাদের বাড়ির একমাত্র বাথরুমটি জোরপূর্বক দখলে নেয়। এর ফলে ভুক্তভোগীর এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়েসহ পরিবারের নারী সদস্যরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাইফুল হকের বাড়ির সামনে এসে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ওই সময় স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়। বর্তমানে যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
যোগাযোগ করা হলে বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”