নরসিংদীতে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
বৃদ্ধকে মারধর ও লুটপাটের পর মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ, তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার মুগা এলাকায় শত বছরের ভোগদখলীয় জমি দখল, চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে রুবেল নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আ: বাতেন এ ঘটনায় নরসিংদীর পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগী আ: বাতেন জানান, তার দুই ছেলে প্রবাসে থাকায় বাড়িতে শুধু নারী ও শিশুরা বসবাস করেন। এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রুবেল তাদের ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার-নির নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ মে আ: বাতেন তার নিজস্ব মালিকানাধীন (পর্চা ও নকশা অনুযায়ী) জমিতে ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ সময় কনস্টেবল রুবেল নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃদ্ধ বাতেনকে মারধর করে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বেলাব থানায় মামলা করতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ সদস্য হওয়ায় থানা পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে আ: বাতেন আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি পিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দিলেও আসামির প্রভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ভুক্তভোগী আদালতে 'নারাজি' আবেদন করলে আদালত বেলাব থানা পুলিশকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
আদালতের এই আদেশে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বছরের ২৬ আগস্ট কনস্টেবল রুবেল তার সহযোগী হারুন, খলিল, রাশেদা, শামীম, নাইম, অপি মিয়া, হাসনা, জোসনা, জেসমিন, আলম, আলমগীর, সফর আলী, জলিল, রুমা, সৌরব ও লিপিসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে ওই জমিতে জোরপূর্বক বেড়া দেন এবং বৃদ্ধের পরিবারের ওপর হামলা চালান। হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হন। এ সময় বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে বেলাব থানায় চাঁদাবাজির মামলাটির তদন্তে গড়িমসি করায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) পরিবর্তনের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেন আ: বাতেন। এর প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) বায়েজিদ বিন মনসুর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুন (২০২৬) সাক্ষ্যগ্রহণের নোটিশ পেয়ে আ: বাতেন ও সাক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে নিজেদের জবানবন্দি প্রদান করেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) বায়েজিদ বিন মনসুর বলেন,
"বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যেই আমরা সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। মামলার পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরিফকে পরিবর্তন করে নতুন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"