৬ বছরেও লাইসেন্স মেলেনি নাছিরের করাতকলের
ভোগান্তিতে গবাঘোনার দুই হাজার পরিবার
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঙালীপাড়া গবাঘোনা এলাকায় করাতকল পরিচালনার জন্য আবেদন করে ছয় বছরেও লাইসেন্স না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়ভাবে নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত কাঠ প্রক্রিয়াজাতকরণসহ দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তিতে পড়ছেন দুই হাজারের বেশি পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় নৌকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের প্রায় ছয় মাস পাহাড়ি লেক ও আশপাশের জলাশয় পানিতে পূর্ণ থাকায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের শহরে যাতায়াতেও নৌকাই প্রধান বাহন। পারিবারিক, ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কাজেও স্থানীয়রা নিজেদের নৌকা ব্যবহার করে থাকেন।
এলাকাবাসী জানান, নৌকা তৈরির জন্য বড় গাছের কাঠ চেরাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার উপযোগী করতে করাতকলটির প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, ১১৫ নম্বর মগবান মৌজার হোল্ডিং নম্বর ৮১-এর অন্তর্ভুক্ত প্রায় পাঁচ একর জায়গায় গবাঘোনা এলাকায় করাতকল স্থাপনের জন্য মো. নাছির উদ্দিন ২০২০ সালের ১৬ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর বন অধিদপ্তরের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরবর্তীতে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো দীনেশ কান্তি চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা সরেজমিন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মত দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ মালিকপক্ষের।
করাতকলটির মালিকপক্ষের দাবি, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কারণে পরিবেশগত কোনো সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে না। তবে শ্রমবাজারে চাহিদা কম থাকায় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে করাতকলটি বন্ধের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলেন, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য করাতকলটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নৌকা তৈরির কাজে কাঠ চেরাইয়ের সুবিধা না থাকলে তাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে অন্যত্র যেতে হয়।
এ অবস্থায় করাতকলটির কার্যক্রমের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত লাইসেন্স দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ এবং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।