ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

ফলোআপ :

চার দেয়ালের বন্দিত্ব ভেঙে ঝমেলার জীবনে স্বস্তি, পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন


মোহাম্মদ দুদু মল্লিক
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক

চার দেয়ালের বন্দিত্ব ভেঙে ঝমেলার জীবনে স্বস্তি, পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন

দীর্ঘ প্রায় এক দশক চার দেয়ালের বন্দিজীবন। দারিদ্র্য,অসুস্থতা আর একাকীত্বে দিন কাটছিল ৭০ বছরের ঝমেলা বেগমের। চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগও ছিল না তাঁর। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পত্র পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন সহ ভিডিও প্রকাশিত খবর নজরে আসে মাননীয় ডিসি মহোদয় বদলে দিল তাঁর জীবনের চিত্র। অসহায় ঝমেলার পাশে দাঁড়িয়েছে শেরপুর জেলা প্রশাসন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ঝমেলা বেগমের অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের। সোমবার ঝমেলা বেগমের বাড়িতে নিজেই ছুটে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে তিনি ঝমেলার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং বাড়ির সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। ঝমেলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় দুই বান্ডিল টিন ও একটি হুইলচেয়ার। এছাড়া দৈনিক ‘প্রতিদিনের সংবাদ’-এর সম্পাদকের পক্ষ থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলা ও শেরপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহিদুল হক মনিরের মাধ্যমে ঝমেলাকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তাতেই থেমে থাকেনি প্রশাসনের উদ্যোগ। 

ঝমেলার জীবনযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ,বাড়ির ভিটার মাটি ভরাট,বিদ্যুৎ সংযোগ এবং এক মাসের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। প্রায় ১০ বছর ঘরবন্দি থাকার পর হুইলচেয়ার পেয়ে এখন ঘরের বাইরে কিছুটা চলাফেরার সুযোগ পাচ্ছেন ঝমেলা। দীর্ঘদিনের বন্দিত্বের পর এই সামান্য চলাচলের স্বাধীনতাই যেন তাঁর কাছে বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে জীবনে। এ সময় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন,দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকা একজন প্রবীণ নারীর পাশে প্রশাসন যেভাবে দাঁড়িয়েছে,তা মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত। তাঁদের মতে,সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি এভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়,তাহলে অনেক অসহায় মানুষের জীবনেই ফিরতে পারে স্বস্তি ও আশার আলো। ঝমেলার মতো আরও অসহায় মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও প্রশাসন ও সমাজের সামর্থ্যবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ভিশন বাংলা ২৪

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


চার দেয়ালের বন্দিত্ব ভেঙে ঝমেলার জীবনে স্বস্তি, পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ প্রায় এক দশক চার দেয়ালের বন্দিজীবন। দারিদ্র্য,অসুস্থতা আর একাকীত্বে দিন কাটছিল ৭০ বছরের ঝমেলা বেগমের। চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ঘরের বাইরে বের হওয়ার সুযোগও ছিল না তাঁর। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পত্র পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন সহ ভিডিও প্রকাশিত খবর নজরে আসে মাননীয় ডিসি মহোদয় বদলে দিল তাঁর জীবনের চিত্র। অসহায় ঝমেলার পাশে দাঁড়িয়েছে শেরপুর জেলা প্রশাসন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ঝমেলা বেগমের অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের। সোমবার ঝমেলা বেগমের বাড়িতে নিজেই ছুটে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে তিনি ঝমেলার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর শারীরিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং বাড়ির সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। ঝমেলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় দুই বান্ডিল টিন ও একটি হুইলচেয়ার। এছাড়া দৈনিক ‘প্রতিদিনের সংবাদ’-এর সম্পাদকের পক্ষ থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলা ও শেরপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহিদুল হক মনিরের মাধ্যমে ঝমেলাকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তাতেই থেমে থাকেনি প্রশাসনের উদ্যোগ। 


ঝমেলার জীবনযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ,বাড়ির ভিটার মাটি ভরাট,বিদ্যুৎ সংযোগ এবং এক মাসের শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। প্রায় ১০ বছর ঘরবন্দি থাকার পর হুইলচেয়ার পেয়ে এখন ঘরের বাইরে কিছুটা চলাফেরার সুযোগ পাচ্ছেন ঝমেলা। দীর্ঘদিনের বন্দিত্বের পর এই সামান্য চলাচলের স্বাধীনতাই যেন তাঁর কাছে বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে জীবনে। এ সময় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন,দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকা একজন প্রবীণ নারীর পাশে প্রশাসন যেভাবে দাঁড়িয়েছে,তা মানবিকতার একটি দৃষ্টান্ত। তাঁদের মতে,সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও যদি এভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়,তাহলে অনেক অসহায় মানুষের জীবনেই ফিরতে পারে স্বস্তি ও আশার আলো। ঝমেলার মতো আরও অসহায় মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও প্রশাসন ও সমাজের সামর্থ্যবানরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত