বানারীপাড়ার বিশারকান্দিতে নৌকায় বিক্রি হচ্ছে সবজি চাষের জন্য ভাসমান বেড
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি এলাকায় বর্ষাকালে জলমগ্ন জমিতে সবজি চাষের জন্য নৌকায় করে বিক্রি হচ্ছে ভাসমান বেড। জলাবদ্ধতার কারণে প্রচলিত কৃষিকাজ ব্যাহত হলেও ভাসমান বেডে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কচুরিপানা, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য জৈব উপকরণ ব্যবহার করে এসব ভাসমান বেড তৈরি করা হয়। পরে নৌকায় করে বেডগুলো কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভাসমান হাটে নিয়ে আসা হয়। কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী এই বেড গুলো ভাসমান হাট থেকে কিনে নিয়ে যায়।
বিশারকান্দি ও আশপাশের এলাকায় বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল ও নিচু জমিতে পানি জমে থাকে। এ সময় অনেক জমিতে সরাসরি চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। ভাসমান বেড পদ্ধতি সেই সমস্যার একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।ভাসমান বেডে লাউ, শসা, করলা, ঢেঁড়স, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। মাটির ওপর নির্ভর না করে পানির ওপর বেড তৈরি হওয়ায় জলাবদ্ধ এলাকায়ও কৃষিকাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
বিক্রেতারা নৌকায় করে বেড গুলো নিয়ে গিয়ে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে কৃষকের বাড়ির কাছেই বেড পৌঁছে যাচ্ছে এবং পরিবহন খরচ ও শ্রম দুটোই কমছে।
কৃষকদের মতে, পানিতে ডুবে থাকা জমিকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান বেডে সবজি উৎপাদন করা গেলে বর্ষা মৌসুমেও কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধ ও জলমগ্ন এলাকায় ভাসমান কৃষি সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ, বেডের স্থায়িত্ব, মানসম্মত বীজ ও বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া গেলে এ পদ্ধতি আরও জনপ্রিয় হতে পারে।
বিশারকান্দিতে নৌকায় করে ভাসমান বেড বিক্রি বর্ষাকালে স্থানীয় কৃষকদের বিকল্প আয়ের পথও তৈরি করছে।