ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

কানাডাপ্রবাসী গৃহবধূ খুন, শ্বশুর-দেবরসহ গ্রেপ্তার ৫



কানাডাপ্রবাসী গৃহবধূ খুন, শ্বশুর-দেবরসহ গ্রেপ্তার ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার একটি বাসার পাশে মাটি খুঁড়ে গৃহবধূ আফরোজা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলাটি করেন।এই হত্যা মামলায় মোট ছয়জনকে এজাহাভুক্ত আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আফরোজা বেগমের স্বামী কানাডাপ্রবাসী আশরাফুল আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
পারিবারিক কলহের জেরে আফরোজাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরের দিন গত শনিবার আশরাফুল কানাডায় পালিয়ে যান।এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, ঢাকায় অবস্থানরত আফরোজার শ্বশুর সামসুদ্দিন, দেবর সজিব, সজিবের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার ও খালাশাশুড়ি শান্তা চৌধুরীসহ এজাহারভুক্ত ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এরপর দক্ষিণখানের দক্ষিণপাড়া ও মধ্যপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এ হত্যা মামলায় আফরোজার শ্বশুর মো. সামসুদ্দিন, দেবর মো. সজিব, সজিবের স্ত্রী তাহমীনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজিয়া খাতুন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'গত শুক্রবার আশরাফুল নিজেই তাঁর স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে আফরোজার পরনের শাড়ি দিয়ে তাঁকে পেঁচিয়ে বাসার পেছনে মাটিচাপা দেন। হত্যার কারণ সম্পর্কে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, বিয়েতে এক কোটি টাকা কাবিন লেখাতে বাধ্য করায় আশরাফুল তাঁর স্ত্রী আফরোজার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। গত শুক্রবার এ নিয়ে দক্ষিণখানের দক্ষিণপাড়ার বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়।
একপর্যায়ে আশরাফুল বঁটি দিয়ে আফরোজার মাথায় কোপ দেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।  অন্যরা সরাসরি খুনে জড়িত না থাকলেও মরদেহ গুমে সহায়তা করেন।'আশরাফুল-আফরোজা দম্পতি কানাডা থাকতেন জানিয়ে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানান, সেখানে তাঁদের বিয়ে হলেও কাবিন হয়নি। গত এপ্রিলে তাঁরা দেশে ফেরেন।
কিছুদিন আগে আফরোজাদের নীলফামারীর ডোমারে গ্রামের বাড়িতে এক কোটি টাকার কাবিন করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানায়, আফরোজাকে হত্যার পর ওই দিনই তাঁর লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয় বাশার পাশে। এরপর আশরাফুল তড়িঘড়ি করে কানাডা চলে যান। আফরোজার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দক্ষিণখানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নেন। কিন্তু শ্বশুরপক্ষ কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। পরে গত সোমবার আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরেই তাঁর মরদেহের সন্ধান পায় পুলিশ। আশরাফুল ও আফরোজার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের ঘরে তাঁদের দুজনেরই সন্তান আছে। হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়।তদন্ত কর্মকর্তা রেজিয়া খাতুন বলেন, 'গত ২৯ মে বহুবার আফরোজাকে ফোন করে কোনো সাড়া না পেয়ে তার বাবা ও ভাই নীলফামারী থেকে ঢাকায় আসেন। পরে আফরোজার নিখোঁজের বিষয়ে তার ভাই আরিফুল ইসলাম দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত করতে গিয়ে রহস্য উদঘাটন হয়।' এসআই রাজিয়া খাতুন বলেন, '৩০ মে জিডির দায়িত্ব পেয়ে আশরাফুলদের দক্ষিণখানের বাড়ি গিয়ে প্রথমে তার স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।  তখন সবাই বলেন, তারা কিছুই জানেন না। তারা জানান, ছুটি শেষ হওয়ায় আশরাফুল কানাডায় চলে গেছেন। আফরোজা বনানীতে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর থেকে তার সন্ধান তারা পাচ্ছেন না। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে কানাডায় আশরাফুলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এর এক পর্যায়ে আশরাফুল তাকে বলেন, আপনি এই মরদেহ উদ্ধার করে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেবেন। কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে। আপনাকে নগদ ১৫ লাখ টাকা দেব এবং আপনার পরিবারে দুজনকে কানাডায় নিয়ে আসব।' তিনি আরো বলেন, 'পরদিন আশরাফুলের খালা ফোন দিয়ে  তাকে একা যেতে বলেন এবং আশরাফুল তার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। পরে ওই বাসায় গিয়ে আশরাফুলের সঙ্গে কথা বলে আফরোজার কবরের সন্ধান মেলে।'

ভিশন বাংলা ২৪

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


কানাডাপ্রবাসী গৃহবধূ খুন, শ্বশুর-দেবরসহ গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৩

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার একটি বাসার পাশে মাটি খুঁড়ে গৃহবধূ আফরোজা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলাটি করেন।এই হত্যা মামলায় মোট ছয়জনকে এজাহাভুক্ত আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আফরোজা বেগমের স্বামী কানাডাপ্রবাসী আশরাফুল আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
পারিবারিক কলহের জেরে আফরোজাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরের দিন গত শনিবার আশরাফুল কানাডায় পালিয়ে যান।এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, ঢাকায় অবস্থানরত আফরোজার শ্বশুর সামসুদ্দিন, দেবর সজিব, সজিবের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার ও খালাশাশুড়ি শান্তা চৌধুরীসহ এজাহারভুক্ত ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এরপর দক্ষিণখানের দক্ষিণপাড়া ও মধ্যপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এ হত্যা মামলায় আফরোজার শ্বশুর মো. সামসুদ্দিন, দেবর মো. সজিব, সজিবের স্ত্রী তাহমীনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজিয়া খাতুন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'গত শুক্রবার আশরাফুল নিজেই তাঁর স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে আফরোজার পরনের শাড়ি দিয়ে তাঁকে পেঁচিয়ে বাসার পেছনে মাটিচাপা দেন। হত্যার কারণ সম্পর্কে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, বিয়েতে এক কোটি টাকা কাবিন লেখাতে বাধ্য করায় আশরাফুল তাঁর স্ত্রী আফরোজার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। গত শুক্রবার এ নিয়ে দক্ষিণখানের দক্ষিণপাড়ার বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়।
একপর্যায়ে আশরাফুল বঁটি দিয়ে আফরোজার মাথায় কোপ দেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।  অন্যরা সরাসরি খুনে জড়িত না থাকলেও মরদেহ গুমে সহায়তা করেন।'আশরাফুল-আফরোজা দম্পতি কানাডা থাকতেন জানিয়ে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানান, সেখানে তাঁদের বিয়ে হলেও কাবিন হয়নি। গত এপ্রিলে তাঁরা দেশে ফেরেন।
কিছুদিন আগে আফরোজাদের নীলফামারীর ডোমারে গ্রামের বাড়িতে এক কোটি টাকার কাবিন করা হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানায়, আফরোজাকে হত্যার পর ওই দিনই তাঁর লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয় বাশার পাশে। এরপর আশরাফুল তড়িঘড়ি করে কানাডা চলে যান। আফরোজার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দক্ষিণখানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে খোঁজ নেন। কিন্তু শ্বশুরপক্ষ কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। পরে গত সোমবার আফরোজার ভাই আরিফুল ইসলাম দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরেই তাঁর মরদেহের সন্ধান পায় পুলিশ। আশরাফুল ও আফরোজার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের ঘরে তাঁদের দুজনেরই সন্তান আছে। হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়।তদন্ত কর্মকর্তা রেজিয়া খাতুন বলেন, 'গত ২৯ মে বহুবার আফরোজাকে ফোন করে কোনো সাড়া না পেয়ে তার বাবা ও ভাই নীলফামারী থেকে ঢাকায় আসেন। পরে আফরোজার নিখোঁজের বিষয়ে তার ভাই আরিফুল ইসলাম দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত করতে গিয়ে রহস্য উদঘাটন হয়।' এসআই রাজিয়া খাতুন বলেন, '৩০ মে জিডির দায়িত্ব পেয়ে আশরাফুলদের দক্ষিণখানের বাড়ি গিয়ে প্রথমে তার স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।  তখন সবাই বলেন, তারা কিছুই জানেন না। তারা জানান, ছুটি শেষ হওয়ায় আশরাফুল কানাডায় চলে গেছেন। আফরোজা বনানীতে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর থেকে তার সন্ধান তারা পাচ্ছেন না। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে কানাডায় আশরাফুলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এর এক পর্যায়ে আশরাফুল তাকে বলেন, আপনি এই মরদেহ উদ্ধার করে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেবেন। কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে। আপনাকে নগদ ১৫ লাখ টাকা দেব এবং আপনার পরিবারে দুজনকে কানাডায় নিয়ে আসব।' তিনি আরো বলেন, 'পরদিন আশরাফুলের খালা ফোন দিয়ে  তাকে একা যেতে বলেন এবং আশরাফুল তার সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। পরে ওই বাসায় গিয়ে আশরাফুলের সঙ্গে কথা বলে আফরোজার কবরের সন্ধান মেলে।'

ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত