ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চীনের তৈরি ২০টি যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ



২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চীনের তৈরি ২০টি যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

বিমান বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ সিই মাল্টি-রোল ফাইটার জেট কেনার প্রস্তাব এসেছে। চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রকল্পটির মোট মূল্য ধরা হয়েছে ২২০ কোটি ডলার (প্রায় ২৭,০৬০ কোটি টাকা)। চলতি ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এর বাস্তবায়ন রূপায়ণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, জে-১০ সিই কেনার চুক্তিটি সরাসরি ক্রয় বা জি টু জি পদ্ধতিতে চীনের সঙ্গে করা হতে পারে। কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে—প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০ বছরের মধ্যে (২০৩৫-২০৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত) পরিশোধের শর্তে পরিচালিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ফাইটার জেটের মূল্য প্রাক্কলিত করা হয়েছে ৬ কোটি ডলার; ২০টি বিমানের মূল ক্রয়েই বাজেট দাঁড়ায় ১২০ কোটি ডলার (প্রায় ১৪,৭৬০ কোটি টাকা)। তদুপরি, স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও পরিবহন খরচ বাবদ আনুমানিক ৮২ কোটি ডলার (প্রায় ১০,৮৬০ কোটি টাকা) যোগ করা হয়েছে। বীমা, ভ্যাট, এজেন্সি কমিশন, পূর্ত কাজ ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে মোট ব্যয় ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছায়—নথিতে এমনটাই উল্লেখ আছে।

চলতি বছরের মার্চে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনে এক সফরে গেলে এ প্রস্তাব নিয়ে চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়; এতে চীন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায় বলে জানানো হয়। গত এপ্রিলে বিমানবাহিনী প্রধানকে সভাপতি করে এ বিষয়ের তত্ত্বাবধানে ১১ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠিত হয়। কমিটি খসড়া চুক্তিপত্র পর্যালোচনা, জি টু জি পদ্ধতির উপযোগিতা নির্ধারণ এবং চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে দরকষাকষি করে চূড়ান্ত মূল্য, পেমেন্টের শর্তাবলি ও চুক্তি চূড়ান্ত করবে। চুক্তিতে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল এ এন এম মনিরুজ্জামান (অব.) বলেন, “বিমানবাহিনীর অনেকদিন ধরেই জঙ্গিবিমানের দাবি রয়েছে এবং তারা কেনার পরিকল্পনাও করছিল। তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সবার আগে প্রভাব বিশ্লেষণ করা জরুরি—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে।” তিনি আরো বলেন, ‘উপযুক্ত প্রয়োজন ও কৌশলগত বিবেচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’

গত মে-র শিরোনামে জে-১০ সিই নিয়ে বিদেশে বিতর্ক উঠে—পাকিস্তান-ভারত সংঘর্ষে পাকিস্তান দাবি করে যে তারা এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতের রাফায়েল ফাইটার ধ্বংস করেছে; তবে ওই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। চীনীয় এয়ারশোতে বাইই অ্যারোবেটিক টিম জে-১০সি প্রদর্শন করেছে—যা জে-১০ সিরিজের একটি উন্নত মডেল হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) বহরে মোট ২১২টি এয়ারক্রাফট রয়েছে, যার মধ্যে ৪৪টি ফাইটার জেট—এছাড়া ৩৬টি চীনা নির্মিত এফ–৭, ৮টি মিগ-২৯, এবং কিছু ইয়াক–১৩০ লাইট অ্যাটাক বিমানও আছে। জে-১০ সিরিজের অন্তর্ভুক্তি বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হবে।

চুক্তি চূড়ান্ত হলে নির্দিষ্ট ধরনের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রিজার্ভ পার্টস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে—কিন্তু নথিতে জি টু জি পদ্ধতি এবং চুক্তি শর্তাবলীর ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

ভিশন বাংলা ২৪

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চীনের তৈরি ২০টি যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

বিমান বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ সিই মাল্টি-রোল ফাইটার জেট কেনার প্রস্তাব এসেছে। চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রকল্পটির মোট মূল্য ধরা হয়েছে ২২০ কোটি ডলার (প্রায় ২৭,০৬০ কোটি টাকা)। চলতি ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এর বাস্তবায়ন রূপায়ণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত আনুষ্ঠানিক নথিপত্র অনুযায়ী, জে-১০ সিই কেনার চুক্তিটি সরাসরি ক্রয় বা জি টু জি পদ্ধতিতে চীনের সঙ্গে করা হতে পারে। কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে—প্রকল্পের মোট ব্যয় ১০ বছরের মধ্যে (২০৩৫-২০৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত) পরিশোধের শর্তে পরিচালিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ফাইটার জেটের মূল্য প্রাক্কলিত করা হয়েছে ৬ কোটি ডলার; ২০টি বিমানের মূল ক্রয়েই বাজেট দাঁড়ায় ১২০ কোটি ডলার (প্রায় ১৪,৭৬০ কোটি টাকা)। তদুপরি, স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও পরিবহন খরচ বাবদ আনুমানিক ৮২ কোটি ডলার (প্রায় ১০,৮৬০ কোটি টাকা) যোগ করা হয়েছে। বীমা, ভ্যাট, এজেন্সি কমিশন, পূর্ত কাজ ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে মোট ব্যয় ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছায়—নথিতে এমনটাই উল্লেখ আছে।

চলতি বছরের মার্চে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনে এক সফরে গেলে এ প্রস্তাব নিয়ে চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়; এতে চীন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায় বলে জানানো হয়। গত এপ্রিলে বিমানবাহিনী প্রধানকে সভাপতি করে এ বিষয়ের তত্ত্বাবধানে ১১ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠিত হয়। কমিটি খসড়া চুক্তিপত্র পর্যালোচনা, জি টু জি পদ্ধতির উপযোগিতা নির্ধারণ এবং চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে দরকষাকষি করে চূড়ান্ত মূল্য, পেমেন্টের শর্তাবলি ও চুক্তি চূড়ান্ত করবে। চুক্তিতে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল এ এন এম মনিরুজ্জামান (অব.) বলেন, “বিমানবাহিনীর অনেকদিন ধরেই জঙ্গিবিমানের দাবি রয়েছে এবং তারা কেনার পরিকল্পনাও করছিল। তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সবার আগে প্রভাব বিশ্লেষণ করা জরুরি—বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে।” তিনি আরো বলেন, ‘উপযুক্ত প্রয়োজন ও কৌশলগত বিবেচনার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’

গত মে-র শিরোনামে জে-১০ সিই নিয়ে বিদেশে বিতর্ক উঠে—পাকিস্তান-ভারত সংঘর্ষে পাকিস্তান দাবি করে যে তারা এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতের রাফায়েল ফাইটার ধ্বংস করেছে; তবে ওই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। চীনীয় এয়ারশোতে বাইই অ্যারোবেটিক টিম জে-১০সি প্রদর্শন করেছে—যা জে-১০ সিরিজের একটি উন্নত মডেল হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) বহরে মোট ২১২টি এয়ারক্রাফট রয়েছে, যার মধ্যে ৪৪টি ফাইটার জেট—এছাড়া ৩৬টি চীনা নির্মিত এফ–৭, ৮টি মিগ-২৯, এবং কিছু ইয়াক–১৩০ লাইট অ্যাটাক বিমানও আছে। জে-১০ সিরিজের অন্তর্ভুক্তি বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হবে।

চুক্তি চূড়ান্ত হলে নির্দিষ্ট ধরনের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রিজার্ভ পার্টস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে—কিন্তু নথিতে জি টু জি পদ্ধতি এবং চুক্তি শর্তাবলীর ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত