নরসিংদীতে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার — ডিবির জালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য
মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে বহনের স্বীকারোক্তি; তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে সংশ্লিষ্টতা, বললেন পুলিশ সুপার।
নরসিংদীর বেলাব ও রায়পুরা উপজেলায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ডিবির একটি সূত্র জানায়, রবিবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে রিকুইজিশনকৃত একটি মাইক্রোবাসযোগে বেলাব ও রায়পুরা থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি চৌকস দল। একইদিন বিকেল আনুমানিক ৫টা ৫ মিনিটে রায়পুরা থানার লোচনপুরা বাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বেলাব থানার বারৈচা বাজার এলাকা থেকে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে খামারেরচর এলাকায় প্রবেশ করছে।
পরে ডিবি সদস্যরা খামারেরচর এএনএম জামে মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী সেখানে পৌঁছালে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম মো. জীবন মিয়া (২৮)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নরসিংদীর বেলাব থানায় কর্মরত এক কনস্টেবল।
তল্লাশিকালে তার ট্রাউজারের পকেটে থাকা একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে রাখা তিনটি জিপার ব্যাগ থেকে মোট ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসময় তার ব্যবহৃত নীল রঙের একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল ১১-৬২৯২) জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কনস্টেবল জীবন মিয়া স্বীকার করেছেন যে, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যেই তিনি এসব ইয়াবা বহন করছিলেন।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ১০(ক)/৩৮ ধারায় বেলাব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আটক পুলিশ সদস্য দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, “ডিবির মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা অবগত হয়েছি। এ ঘটনায় অন্য কোনো সদস্য জড়িত আছেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।