গ্রাহক আস্থা ও সুশাসনে উদাহরণ জেনিথ ইসলামী লাইফ
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর বার্ষিক সম্মেলন ২০২৫ বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী হোটেল সী প্যালেসের বলরুমে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)’র প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বিআইএফ’র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল এস. এম. নুরুজ্জামান।
সারা দেশ থেকে আগত প্রায় ৮৫০ জন উন্নয়ন কর্মকর্তা ও কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বীমা খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, গ্রাহকসেবা বৃদ্ধি এবং ইসলামী বীমার প্রসারে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়।

“জেনিথ ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে ক্লেইম না পরিশোধের কোনো অভিযোগ নেই” — বিআইএ প্রেসিডেন্ট
বিআইএ প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ বলেন,
“জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে বীমা দাবির কোনো অভিযোগ নেই—এটি গ্রাহক আস্থা ও সুশাসনের প্রতিফলন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোথাও শুনিনি যে এই কোম্পানি কোনো ক্লেইম পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি বলেন, দেশের ৩৬টি বীমা কোম্পানির মধ্যে প্রায় ১০টি কোম্পানি বর্তমানে চরম দুরবস্থায় রয়েছে। এসব কোম্পানি প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধে ব্যর্থ। এসময় তিনি দুর্নীতিবাজ কোম্পানির পরিচালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং বলেন,
“আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডিআরএ’র সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
বীমা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“প্রথম বর্ষের ব্যবসা ধরে রাখতে পারলে কোম্পানি টেকসই অগ্রগতি অর্জন করবে। গ্রাহক সেবার মান বজায় রাখাই সাফল্যের চাবিকাঠি।”
গ্রাহক দাবি পরিশোধ ও সম্মাননা প্রদান
সম্মেলনের বিকাল পর্বে একজন গ্রাহকের মৃত্যুদাবি ও তিনজনের মেয়াদোত্তীর্ণ দাবিসহ মোট ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬০৫ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। মৃত্যুদাবির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩০ টাকা, যেখানে ওই গ্রাহক ১ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রিমিয়াম প্রদান করেছিলেন।
চেক হস্তান্তর করেন বিআইএ প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ, কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান এ টি এম এনায়েত উল্লাহ ও বিআইএফ প্রেসিডেন্ট বিএম ইউসুফ আলী।
“বীমা মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানবিক অঙ্গীকার” — বিএম ইউসুফ আলী
বিআইএফ প্রেসিডেন্ট বিএম ইউসুফ আলী বলেন,
“বীমা কেবল আর্থিক পণ্য নয়, এটি মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানবিক অঙ্গীকার। জেনিথ অর্থ ‘শীর্ষ’, তাই এই কোম্পানি একদিন অবশ্যই দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানের সারিতে পৌঁছাবে।”
তিনি আরও বলেন,
“সিইও এস. এম. নুরুজ্জামান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বে জেনিথ ইসলামী লাইফ অচিরেই বড় সাফল্য অর্জন করবে।”
প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও আর্থিক প্রবৃদ্ধি
সভাপতির বক্তব্যে সিইও এস. এম. নুরুজ্জামান বলেন,
“জেনিথ ইসলামী লাইফ একটি সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক আধুনিক প্রতিষ্ঠান। আমরা ইআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করছি এবং কল সেন্টার, ই-রিসিপ্ট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা আরও গতিশীল করেছি।”
তিনি জানান,
-
কোম্পানি এখন ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে দাবি আবেদন গ্রহণ করছে;
-
দেশের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবন ও স্বাস্থ্যবীমা পরিচালিত হচ্ছে;
-
২২টি ব্যাংকের সঙ্গে অনলাইন সংযোগে প্রিমিয়াম পরিশোধ সম্ভব;
-
বাংলা ভাষায় মোবাইল অ্যাপস ও বিকাশ-নগদ-পেমেন্ট সুবিধাও রয়েছে।
২০২৫ সালে কোম্পানির দাবি নিষ্পত্তির হার ৯৭.২৩%, প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ৭১.৮১%, নবায়ন প্রিমিয়াম ১১.৫০%, এবং গ্রুপ বীমা ২৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি।
রঙিন র্যালিতে উদ্বোধন
দিনের শুরুতে বেলা ২টায় হোটেল সী প্যালেসের সামনে রঙিন র্যালির মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইমরানসহ কোম্পানির বিভিন্ন শাখা প্রধানরা।
সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. নুরুজ্জামান। তিনি বলেন,
“প্রতিদিন একটি নতুন পলিসি বিক্রি, একটি নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ, একটি নতুন এফএ নিয়োগ এবং সাপ্তাহিক সভায় অংশগ্রহণ—এই চার অভ্যাসই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”



