ঢাকা    সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় আসছে বড় সংস্কার



ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় আসছে বড় সংস্কার

বর্তমানে রাজধানী ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে। ফলে নগরবাসীকে প্রতিদিন নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। সড়কে পুরোনো ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস, ইঞ্জিন থেকে কালো ধোঁয়া, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বিশৃঙ্খলা, যানজট ও অনিরাপদ সেবা যাত্রীদের প্রতিদিন ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য ভ্রমণ দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া বিশৃঙ্খলার কারণে দেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অকার্যকর রুটে বাসের চলাচল এবং অনিয়ন্ত্রিত যানজটের কারণে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার করতে যাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফান্ড (পিটিএফ) গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট ফেজ-১-এর আওতায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এই তহবিল গঠন করবে। এর মাধ্যমে প্রথমে ঢাকায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস নামানো হবে। ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বড় শহরে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, ঢাকা বাস মডার্নাইজেশন প্রোগ্রামের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২১৩.৪০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১ হাজার ১৮৩.৪০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক, বাকি ৩০ কোটি টাকা দেবে সরকার। পুরো প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২ হাজার ৪৮১.৯৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার জোগান দেবে বিশ্বব্যাংক।

এই পরিবহন তহবিলে মূলধন হিসেবে ৪২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিতে সিড ক্যাপিটাল হিসেবে থাকবে আরও ২৪৪ কোটি টাকা। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন এই ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনা, ভাড়া নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়ের নিয়ন্ত্রণ, বাস কেনা, বাসের মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিভিন্ন কোম্পানিকে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে মালিকরা যাতে পুরোনো বাস সরিয়ে নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারেন, সেজন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি বৈদ্যুতিক বাস ডিপো তৈরি করা হবে। এছাড়া চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের সেবার মান উন্নত করতে ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম’ চালু করা হবে। এ ব্যবস্থার মধ্যে গাড়ির অবস্থান ট্র্যাকিং, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়, যাত্রীদের জন্য তথ্য প্রদর্শন, একটি অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টার, ডেটা সেন্টার ও একটি মোবাইল অ্যাপ থাকবে।

এই অ্যাপ ব্যবহার করে যাত্রীরা বাসের সময়সূচি জানতে পারবেন, টিকিট কাটতে পারবেন এবং ভ্রমণের সময় দেখার পাশাপাশি নারী নির্যাতনসহ যেকোনো ঘটনার অভিযোগ জানানোর সুবিধাও থাকবে।

সড়ক নিরাপত্তা, জ্বালানি সাশ্রয় ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে চালক ও কন্ডাক্টরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাস পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ উদ্যোগের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করবে বেসরকারি খাতের প্রভাবশালী নেতারা একে কতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন এবং বাস্তবায়নের সময় কতটা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন, তার ওপর।

ভিশন বাংলা ২৪

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় আসছে বড় সংস্কার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বর্তমানে রাজধানী ঢাকার পরিবহনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে। ফলে নগরবাসীকে প্রতিদিন নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। সড়কে পুরোনো ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস, ইঞ্জিন থেকে কালো ধোঁয়া, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বিশৃঙ্খলা, যানজট ও অনিরাপদ সেবা যাত্রীদের প্রতিদিন ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য ভ্রমণ দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া বিশৃঙ্খলার কারণে দেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অকার্যকর রুটে বাসের চলাচল এবং অনিয়ন্ত্রিত যানজটের কারণে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার করতে যাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফান্ড (পিটিএফ) গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট ফেজ-১-এর আওতায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এই তহবিল গঠন করবে। এর মাধ্যমে প্রথমে ঢাকায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস নামানো হবে। ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বড় শহরে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, ঢাকা বাস মডার্নাইজেশন প্রোগ্রামের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২১৩.৪০ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১ হাজার ১৮৩.৪০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক, বাকি ৩০ কোটি টাকা দেবে সরকার। পুরো প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২ হাজার ৪৮১.৯৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার জোগান দেবে বিশ্বব্যাংক।

এই পরিবহন তহবিলে মূলধন হিসেবে ৪২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিতে সিড ক্যাপিটাল হিসেবে থাকবে আরও ২৪৪ কোটি টাকা। অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন এই ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনা, ভাড়া নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়ের নিয়ন্ত্রণ, বাস কেনা, বাসের মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিভিন্ন কোম্পানিকে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে মালিকরা যাতে পুরোনো বাস সরিয়ে নতুন ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারেন, সেজন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি বৈদ্যুতিক বাস ডিপো তৈরি করা হবে। এছাড়া চুক্তি ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের সেবার মান উন্নত করতে ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম’ চালু করা হবে। এ ব্যবস্থার মধ্যে গাড়ির অবস্থান ট্র্যাকিং, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়, যাত্রীদের জন্য তথ্য প্রদর্শন, একটি অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টার, ডেটা সেন্টার ও একটি মোবাইল অ্যাপ থাকবে।

এই অ্যাপ ব্যবহার করে যাত্রীরা বাসের সময়সূচি জানতে পারবেন, টিকিট কাটতে পারবেন এবং ভ্রমণের সময় দেখার পাশাপাশি নারী নির্যাতনসহ যেকোনো ঘটনার অভিযোগ জানানোর সুবিধাও থাকবে।

সড়ক নিরাপত্তা, জ্বালানি সাশ্রয় ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে চালক ও কন্ডাক্টরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাস পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ উদ্যোগের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করবে বেসরকারি খাতের প্রভাবশালী নেতারা একে কতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন এবং বাস্তবায়নের সময় কতটা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন, তার ওপর।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত