কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
জাদুর নামে প্রতারণা ও পকেটমারের অভয়ারণ্য, দেখার কি কেউ নেই?
দেশের প্রধান এবং সবচেয়ে ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার কমলাপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে জাদুর নামে প্রতারণা, জুয়া এবং পকেটমারদের দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে করে এই স্টেশনে যাতায়াত করেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় কেপিআই (KPI) এলাকা হলেও এখানে এসে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন যাত্রীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও প্রবেশমুখের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে একদল চক্র তথাকথিত 'জাদুর খেলা'র আসর বসিয়েছে। আসলে জাদুর নামে সেখানে যা চলছে, তা মূলত এক ধরণের সুকৌশলী প্রতারণা ও জুয়া। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল মানুষ কৌতুহলবশত সেখানে দাঁড়ালেই এই চক্রটি তাদের নানাভাবে বিভ্রান্ত করে এবং একপর্যায়ে সর্বস্ব লুটে নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই জাদুর আসরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভিড়ের মধ্যে তীব্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্র। প্রতিদিন অসংখ্য অসচেতন যাত্রী এখানে পকেট কাটা পড়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের মতে, প্ল্যাটফর্মের মতো জনাকীর্ণ জায়গায় এভাবে জাদুর আসর বসিয়ে জটলা তৈরি করার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই জাতীয় অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের, তাদের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— "এখানে কি দেখার কেউ নেই?"
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই ধরনের প্রতারণামূলক জাদুর আসর উচ্ছেদ এবং পকেটমার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।