আলোচনার কেন্দ্রে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের পরিবর্তনের প্রত্যয়ে ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না
ঢাকায় বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসীর ঐতিহ্যবাহী ও প্রাণপ্রিয় সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন, ঢাকার ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিয়াম (BIAM) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যাপক প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে। এবারের নির্বাচনে প্রবীণ, অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত ‘কয়েস সামি-আজিজ-জিয়া-মুন্না-রিপন’ পরিষদকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্নার দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সঙ্গে ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্নার সম্পৃক্ততা তিন দশকেরও বেশি সময়ের। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জালালাবাদ ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্বের যাত্রা শুরু করে তিনি ধাপে ধাপে সংগঠনটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৫ সালে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি পাঁচবার নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এককভাবে ‘জালালাবাদ বার্ষিকী’ সম্পাদনার মাধ্যমে সংগঠনের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কর্মকাণ্ড সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রশাসনিক দক্ষতা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পিত নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রমকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে একজন পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
শিক্ষা জীবনেও ড. মুন্নার রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিজবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে ইন্টারমোডালিটি অ্যান্ড মার্কেটিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি সুইডেন সরকারের অর্থায়নে ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে পোর্ট ম্যানেজমেন্টে এমএস ডিগ্রি, অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। জার্মানির সম্মানজনক সিডিজি (CDG) ফেলোশিপ এবং বিশ্বব্যাংক স্কলারশিপ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি নিজের যোগ্যতার স্বীকৃতি লাভ করেন। বিভিন্ন সময়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্দর ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন।
পেশাগত জীবনেও ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্নার রয়েছে বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পার্সোনাল উইংয়ে এপিএস হিসেবে দীর্ঘ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর মেম্বার (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট সদস্য, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ভাইভা বোর্ডের সরকার মনোনীত বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক, অফিসার্স ক্লাব ঢাকার কার্যনির্বাহী কমিটির তিনবারের সদস্য এবং জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশনের তিনবারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বর্তমানে তিনি দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ব্যুরোসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
সংযুক্ত প্রচারপত্রে ড. মুন্না তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারে জালালাবাদ এসোসিয়েশনকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, সংগঠনটি শুধু একটি সামাজিক সংগঠন নয়; বরং ঢাকায় বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসীর অধিকার, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম। সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সদস্যসেবা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন।
‘কয়েস সামি-আজিজ-জিয়া-মুন্না-রিপন’ পরিষদের ঘোষিত ইশতেহারেও উন্নয়ন ও ঐতিহ্য রক্ষার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, দ্রুত ডাবল রেললাইন নির্মাণ, নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু, শামসেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালু এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সুরমাসহ প্রধান নদ-নদীর ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নৌপথ সচল, মৌলভীবাজারে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, সিলেটে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি স্থাপনের দাবিও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয়েও প্যানেলটি বেশ কিছু সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেছে। সিলেটে গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মমুখী শিক্ষা ও নিয়মিত জব ফেয়ারের আয়োজন, পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশে সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন, নাগরি লিপি ও স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ, গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান এবং ঢাকায় অবস্থানরত সিলেটের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সংগঠনকে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলে দ্বিতীয় ‘জালালাবাদ ভবন’ নির্মাণ, সংগঠনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন, বিদেশে শাখা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও ঘোষিত হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতায় দেখা যাচ্ছে, ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্নার দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে অন্যতম আলোচিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সমর্থকদের ভাষ্য, সংগঠনের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে সময়োপযোগী সংস্কার ও উন্নয়নের যে রূপরেখা তিনি উপস্থাপন করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে জালালাবাদ এসোসিয়েশন আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত হবে। এ কারণেই নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্নাকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।