ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি, কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী


নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক

৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি, কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশে সাম্প্রতিক নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে বিগত দেড় যুগের ‘ভুল নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের আকস্মিক অস্থিরতা দায়ী। গত ৯ আগস্ট দেশে গত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নিছক কথামালার আড়ালে সত্য লুকানোর কোনো সুযোগ নেই।’ সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, কারিগরি সমস্যা সমাধান এবং সরকারের নেওয়া নতুন উদ্যোগের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সব গ্যাস সরবরাহ করা হলে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতি সচল রাখতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতের মধ্যে গ্যাস সরবরাহে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

কারিগরি সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট বর্তমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি আগের চুক্তি অনুযায়ী আদানির কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

এর সঙ্গে গত ২১ জুলাই আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত দুটি এফএসআরইউর (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) একটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। তবে বর্তমানে সৃষ্ট সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি বাতিল না হলে বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে দ্রুত নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব হবে।

আগস্ট মাসের মতো সংকটের পুনরাবৃত্তি যাতে সেপ্টেম্বরে না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন রুফটপ সোলার নীতিমালা এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকটজনিত দুর্ভোগ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ভিশন বাংলা ২৪

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি, কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশে সাম্প্রতিক নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে বিগত দেড় যুগের ‘ভুল নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের আকস্মিক অস্থিরতা দায়ী। গত ৯ আগস্ট দেশে গত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নিছক কথামালার আড়ালে সত্য লুকানোর কোনো সুযোগ নেই।’ সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, কারিগরি সমস্যা সমাধান এবং সরকারের নেওয়া নতুন উদ্যোগের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সব গ্যাস সরবরাহ করা হলে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতি সচল রাখতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতের মধ্যে গ্যাস সরবরাহে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

কারিগরি সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট বর্তমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি আগের চুক্তি অনুযায়ী আদানির কাছ থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

এর সঙ্গে গত ২১ জুলাই আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত দুটি এফএসআরইউর (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) একটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। তবে বর্তমানে সৃষ্ট সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি বাতিল না হলে বর্তমান পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে দ্রুত নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব হবে।

আগস্ট মাসের মতো সংকটের পুনরাবৃত্তি যাতে সেপ্টেম্বরে না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন রুফটপ সোলার নীতিমালা এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকটজনিত দুর্ভোগ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত