ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

রংপুরে নারীদের জন্য তৈরি কারখানা পেল বিশ্বের সেরা ভবনের স্বীকৃতি

‘নীরব বিনয়ের এক নিদর্শন’


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘নীরব বিনয়ের এক নিদর্শন’

কারখানা মানেই ধোঁয়া, যন্ত্রপাতি আর কর্মব্যস্ত পরিবেশ, এমন ধারণা বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের রংপুরের একটি কার্পেট কারখানা। সবুজ গাছপালা, পুকুরের চারপাশে হাঁটার পথ ও শান্ত প্রাঙ্গণের নান্দনিক নকশার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেয়েছে কারখানাটি।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।  রংপুর শহরে অবস্থিত সাততলা টেক্সটাইল কারখানা ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জিতেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার’। স্থাপত্যের জন্য দেওয়া এই পুরস্কার পেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্থাপত্যশিল্প নতুন করে পরিচিতি পেয়েছে।

রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রতি দুই বছর পরপর দেওয়া হয়।

এ পুরস্কারে শুধু ভবনের সৌন্দর্য নয়, মানুষের উপকারে আসে, এমন স্থাপত্য ও সম্প্রদায়কেন্দ্রিক প্রকল্পকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির নকশায় প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের কর্মপরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় বিচারকেরা বিশেষ প্রশংসা করেছেন। এসব শ্রমিকের অধিকাংশই নারী। ফলে কারখানাটির নকশায় শুধু স্থাপত্যের সৌন্দর্য নয়, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

কারখানাটির নকশায় ভবনের সৌন্দর্যের পাশাপাশি সবুজ পরিবেশ ও খোলামেলা জায়গার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুকুরঘেরা হাঁটার পথ, শান্ত প্রাঙ্গণ এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছপালায় সাজানো সম্মুখভাগ ভবনটিকে দিয়েছে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য।

পুরস্কারের বিচারকেরা গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরিকে ‘নীরব বিনয়ের এক নিদর্শন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের এই মন্তব্যে ভবনটির সাধারণ অথচ নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের একটি শিল্পকারখানা যে কাজের পরিবেশের পাশাপাশি স্থাপত্যের সৌন্দর্য ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যের উদাহরণ হতে পারে, গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি তারই একটি দৃষ্টান্ত।

রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া চারটি ভবনের মধ্যে দুটি ছিল বাংলাদেশের। এর একটি রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি, অন্যটি ঢাকার জলবায়ু-সহনশীল নকশার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। অন্য দুই চূড়ান্ত প্রতিযোগী ছিল বেলজিয়ামের দুটি ভবন। এর একটি ১৯৬০-এর দশকের পুরনো অফিস ভবন, যা নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। অন্যটি সম্প্রতি সম্প্রসারিত একটি শিল্পকলা ইনস্টিটিউট।

২০১৬ সালে চালু হওয়া রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কারকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্থাপত্য পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত প্রতি দুই বছর পরপর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে একবার এর সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে এমন ভবন ও স্থাপত্য প্রকল্পকে সম্মান জানানো হয়, যেগুলোতে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবনী নকশা ও নির্মাণশৈলীর উৎকর্ষ তুলে ধরা হয়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে পুরস্কারটি জিতেছিল স্পেনের বার্সেলোনায় নির্মিত ছয়তলা একটি কাঠের আবাসন প্রকল্প। এর আগের বিজয়ীদের মধ্যে ছিল ব্রাজিলের গ্রামীণ এলাকার একটি স্কুল, পেরুর রাজধানী লিমার একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় নির্মিত একটি হাসপাতাল।

১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি। কারখানাটির নকশায় সবুজ গাছপালার ব্যবহারের প্রশংসা করেছে পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা)।

সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কারখানাটিতে রয়েছে সাজানো বাগান, সবুজে ঘেরা বারান্দা এবং গাছপালায় ঢাকা প্রধান দেয়াল। এসবের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে প্রকৃতির সুন্দর সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ফলে কারখানার ভেতরেও সবুজ পরিবেশের ছোঁয়া পাওয়া যায়।

গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির নকশা করেছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টস। কারখানাটির নকশা তৈরিতে স্থপতিরা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি বাড়ির ধরন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। এসব বাড়িতে সাধারণত খোলা উঠান ও পুকুর থাকে। সেই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কারখানাটিতেও সবুজ পরিবেশ, খোলা জায়গা ও পুকুরের সমন্বয় করা হয়েছে।

কারখানাটিতে কর্মীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছাদে শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য ডে কেয়ার সেন্টার, নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র এবং কর্মীদের বিশ্রাম ও একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ছায়াঘেরা জায়গা।

কারখানার প্রবেশপথে রয়েছে একটি বিশাল নারীমূর্তি। স্থপতিদের মতে, এই ভাস্কর্য নারীর ক্ষমতায়ন ও শক্তির প্রতীক। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নারীর অবদান ও মর্যাদাকে তুলে ধরা হয়েছে।

রিবা জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে বিচারকদের একটি দল কারখানাটি পরিদর্শন করে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কর্মীরা কাজের সময়ের বাইরেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কারখানার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেন।

সংস্থাটির মতে, গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি শুধু উৎপাদনের জন্য তৈরি একটি ভবন নয়। এটি কারখানার নকশা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি ভিন্নধর্মী মডেল তুলে ধরেছে, যেখানে শ্রমিকদের কল্যাণ, সামাজিক যোগাযোগ ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির নকশায় শ্রমিকদের কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) বলেছে, কারখানাটির নকশা কর্মক্ষেত্রে প্রচলিত সামাজিক বৈষম্য ও শ্রেণিবিভেদ কমানোর একটি উদাহরণ।

পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থাটির বিচারক প্যানেলের প্রধান বিজয় জৈন বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন কারখানার বিশাল কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের। এই প্রবেশপথ দিয়ে শ্রমিক, ব্যবস্থাপক ও মালিক, সবাই যাতায়াত করেন।

বাংলাদেশের অনেক বড় কারখানায় শ্রমিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকলেও গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরিতে সেই রীতি অনুসরণ করা হয়নি। বিজয় জৈনের ভাষায়, এটি একটি ‘সমতাভিত্তিক যৌথ প্রবেশপথ’, যা কর্মক্ষেত্রে সবার সমান মর্যাদার প্রতীক।

বৃহস্পতিবার পুরস্কার ঘোষণার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বায়েজিদ এম. খন্দকার বলেন, তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে শিল্পকারখানাও হতে পারে সুন্দর, সবুজ ও মানুষের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, একটি কারখানা যদি প্রথমে সেখানে কাজ করা মানুষের বাড়ির মতো করে তৈরি করা হয়, তাহলে কেমন হবে?’

এই ভাবনা থেকেই কারখানাটিতে উঠান, বাগান, জলাশয় ও ছায়াঘেরা বারান্দা রাখা হয়েছে। তার মতে, কারখানা শুধু কাজ করানোর জায়গা হওয়া উচিত নয়। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত, যেখানে মানুষ কাজের পাশাপাশি স্বস্তি পাবে এবং নতুন করে শক্তি ফিরে পাবে।

গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান কারুপন্ন্য রংপুর লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি হাতে বোনা গালিচার পাশাপাশি ডোরম্যাট ও বাথম্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের বস্ত্রসামগ্রী তৈরি করে।

ভিশন বাংলা ২৪

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


‘নীরব বিনয়ের এক নিদর্শন’

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কারখানা মানেই ধোঁয়া, যন্ত্রপাতি আর কর্মব্যস্ত পরিবেশ, এমন ধারণা বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের রংপুরের একটি কার্পেট কারখানা। সবুজ গাছপালা, পুকুরের চারপাশে হাঁটার পথ ও শান্ত প্রাঙ্গণের নান্দনিক নকশার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পেয়েছে কারখানাটি।


সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।  রংপুর শহরে অবস্থিত সাততলা টেক্সটাইল কারখানা ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জিতেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার’। স্থাপত্যের জন্য দেওয়া এই পুরস্কার পেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্থাপত্যশিল্প নতুন করে পরিচিতি পেয়েছে।


রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রতি দুই বছর পরপর দেওয়া হয়।


এ পুরস্কারে শুধু ভবনের সৌন্দর্য নয়, মানুষের উপকারে আসে, এমন স্থাপত্য ও সম্প্রদায়কেন্দ্রিক প্রকল্পকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির নকশায় প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের কর্মপরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় বিচারকেরা বিশেষ প্রশংসা করেছেন। এসব শ্রমিকের অধিকাংশই নারী। ফলে কারখানাটির নকশায় শুধু স্থাপত্যের সৌন্দর্য নয়, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।


কারখানাটির নকশায় ভবনের সৌন্দর্যের পাশাপাশি সবুজ পরিবেশ ও খোলামেলা জায়গার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুকুরঘেরা হাঁটার পথ, শান্ত প্রাঙ্গণ এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছপালায় সাজানো সম্মুখভাগ ভবনটিকে দিয়েছে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য।


পুরস্কারের বিচারকেরা গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরিকে ‘নীরব বিনয়ের এক নিদর্শন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের এই মন্তব্যে ভবনটির সাধারণ অথচ নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের একটি শিল্পকারখানা যে কাজের পরিবেশের পাশাপাশি স্থাপত্যের সৌন্দর্য ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যের উদাহরণ হতে পারে, গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি তারই একটি দৃষ্টান্ত।


রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া চারটি ভবনের মধ্যে দুটি ছিল বাংলাদেশের। এর একটি রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি, অন্যটি ঢাকার জলবায়ু-সহনশীল নকশার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। অন্য দুই চূড়ান্ত প্রতিযোগী ছিল বেলজিয়ামের দুটি ভবন। এর একটি ১৯৬০-এর দশকের পুরনো অফিস ভবন, যা নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। অন্যটি সম্প্রতি সম্প্রসারিত একটি শিল্পকলা ইনস্টিটিউট।


২০১৬ সালে চালু হওয়া রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কারকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্থাপত্য পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত প্রতি দুই বছর পরপর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে একবার এর সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে। এই পুরস্কারের মাধ্যমে এমন ভবন ও স্থাপত্য প্রকল্পকে সম্মান জানানো হয়, যেগুলোতে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবনী নকশা ও নির্মাণশৈলীর উৎকর্ষ তুলে ধরা হয়।


সর্বশেষ ২০২৪ সালে পুরস্কারটি জিতেছিল স্পেনের বার্সেলোনায় নির্মিত ছয়তলা একটি কাঠের আবাসন প্রকল্প। এর আগের বিজয়ীদের মধ্যে ছিল ব্রাজিলের গ্রামীণ এলাকার একটি স্কুল, পেরুর রাজধানী লিমার একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় নির্মিত একটি হাসপাতাল।


১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি। কারখানাটির নকশায় সবুজ গাছপালার ব্যবহারের প্রশংসা করেছে পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা)।


সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কারখানাটিতে রয়েছে সাজানো বাগান, সবুজে ঘেরা বারান্দা এবং গাছপালায় ঢাকা প্রধান দেয়াল। এসবের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে প্রকৃতির সুন্দর সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। ফলে কারখানার ভেতরেও সবুজ পরিবেশের ছোঁয়া পাওয়া যায়।


গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির নকশা করেছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টস। কারখানাটির নকশা তৈরিতে স্থপতিরা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি বাড়ির ধরন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। এসব বাড়িতে সাধারণত খোলা উঠান ও পুকুর থাকে। সেই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কারখানাটিতেও সবুজ পরিবেশ, খোলা জায়গা ও পুকুরের সমন্বয় করা হয়েছে।


কারখানাটিতে কর্মীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছাদে শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য ডে কেয়ার সেন্টার, নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র এবং কর্মীদের বিশ্রাম ও একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ছায়াঘেরা জায়গা।


কারখানার প্রবেশপথে রয়েছে একটি বিশাল নারীমূর্তি। স্থপতিদের মতে, এই ভাস্কর্য নারীর ক্ষমতায়ন ও শক্তির প্রতীক। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নারীর অবদান ও মর্যাদাকে তুলে ধরা হয়েছে।


রিবা জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে বিচারকদের একটি দল কারখানাটি পরিদর্শন করে। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কর্মীরা কাজের সময়ের বাইরেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কারখানার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেন।


সংস্থাটির মতে, গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি শুধু উৎপাদনের জন্য তৈরি একটি ভবন নয়। এটি কারখানার নকশা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি ভিন্নধর্মী মডেল তুলে ধরেছে, যেখানে শ্রমিকদের কল্যাণ, সামাজিক যোগাযোগ ও প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির নকশায় শ্রমিকদের কল্যাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) বলেছে, কারখানাটির নকশা কর্মক্ষেত্রে প্রচলিত সামাজিক বৈষম্য ও শ্রেণিবিভেদ কমানোর একটি উদাহরণ।


পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থাটির বিচারক প্যানেলের প্রধান বিজয় জৈন বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন কারখানার বিশাল কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের। এই প্রবেশপথ দিয়ে শ্রমিক, ব্যবস্থাপক ও মালিক, সবাই যাতায়াত করেন।


বাংলাদেশের অনেক বড় কারখানায় শ্রমিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকলেও গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরিতে সেই রীতি অনুসরণ করা হয়নি। বিজয় জৈনের ভাষায়, এটি একটি ‘সমতাভিত্তিক যৌথ প্রবেশপথ’, যা কর্মক্ষেত্রে সবার সমান মর্যাদার প্রতীক।


বৃহস্পতিবার পুরস্কার ঘোষণার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বায়েজিদ এম. খন্দকার বলেন, তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে শিল্পকারখানাও হতে পারে সুন্দর, সবুজ ও মানুষের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।


তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, একটি কারখানা যদি প্রথমে সেখানে কাজ করা মানুষের বাড়ির মতো করে তৈরি করা হয়, তাহলে কেমন হবে?’


এই ভাবনা থেকেই কারখানাটিতে উঠান, বাগান, জলাশয় ও ছায়াঘেরা বারান্দা রাখা হয়েছে। তার মতে, কারখানা শুধু কাজ করানোর জায়গা হওয়া উচিত নয়। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত, যেখানে মানুষ কাজের পাশাপাশি স্বস্তি পাবে এবং নতুন করে শক্তি ফিরে পাবে।


গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান কারুপন্ন্য রংপুর লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি হাতে বোনা গালিচার পাশাপাশি ডোরম্যাট ও বাথম্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের বস্ত্রসামগ্রী তৈরি করে।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত