ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

চলনবিলের শাপলা-ঢ্যাপ বিক্রিতে সংসার চলে আব্দুল আলিমের


মোঃ ইব্রাহিম আলী
মোঃ ইব্রাহিম আলী

চলনবিলের শাপলা-ঢ্যাপ বিক্রিতে সংসার চলে আব্দুল আলিমের

এখন হেমন্তকাল। চলনবিলে পানি কমতে শুরু করেছে। বিলজুড়ে এখনো ফুটে আছে অসংখ্য শাপলা। কোথাও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে ঢ্যাপ ও শালুক। প্রকৃতির এই সহজলভ্য সম্পদ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। তাঁদেরই একজন আব্দুল আলিম (৪২)। কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি চলনবিলের শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক বিক্রি করেই বছরের একটি বড় সময় সংসারের খরচ জোগান তিনি।

আব্দুল আলিমের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার জগৎপুর গ্রামে। প্রতিদিন সকালে সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সবজি বাজারে বসে শাপলা ও ঢ্যাপ বিক্রি করেন তিনি। অল্প দামে এসব দেশি জলজ সবজি কিনতে বাজারে আসেন নানা বয়সী মানুষ। মাছ ও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি চলনবিলের শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুকেরও রয়েছে আলাদা কদর।


বাজারে কথা হয় আব্দুল আলিমের সঙ্গে। নিজের জীবন-জীবিকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বছর কৃষিশ্রমিকের কাজ করি। বর্ষার চার মাস বিল থেকে শাপলা, কখনো ঢ্যাপ, আবার কখনো শালুক তুলে হাটবাজারে বিক্রি করি। যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।’

বাজারে তাঁর বিক্রির দৃশ্যও বেশ সাদামাটা। সাত থেকে দশটি ঢ্যাপের আঁটি বিক্রি করছেন ১০ টাকায়। আর ১০টি শাপলার আঁটির দামও ১০ টাকা। সামান্য এই পুঁজি ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই চলে তাঁর জীবন ও জীবিকা। 

আব্দুল আলিম জানান, সকালে বাজারে পণ্য বিক্রি শেষ করে দুপুরের পর আবার বিলে যান । সন্ধ্যা পর্যন্ত বিল থেকে শাপলা, ঢ্যাপসহ বিভিন্ন জলজ সবজি সংগ্রহ করেন। পরে বাড়িতে ফিরে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আঁটি বাঁধেন। পরদিন সকালে সেই আঁটি নিয়ে হাজির হন বাজারে। এভাবেই চলে তাঁর প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা।তিনি বলেন, যাতায়াতের ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে কোনো কোনো দিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় থাকে। তবে প্রতিদিন এমন আয় হয় না। সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন এই কাজ করে আয় করতে পারেন তিনি। বাকি সময় কৃষিশ্রমিকের কাজ করেন।বাজারে শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ছোটবেলায় বিলে শাপলা তুলেছি, শালুক তুলেছি। এখন সেসব স্মৃতি। বিলের সেই শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক অল্প টাকায় কিনতে পারছি। ভালোই লাগছে।’একই বাজারে শাপলা ও ঢ্যাপ কিনতে এসেছেন কলেজশিক্ষার্থী আরমান। তিনি বলেন, ‘শাপলার সবজি রান্না করে খেতে আমার বাবা-মা খুব পছন্দ করেন। তাই তিন আঁটি শাপলা আর দুই আঁটি ঢ্যাপ কিনেছি।’

ভিশন বাংলা ২৪

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


চলনবিলের শাপলা-ঢ্যাপ বিক্রিতে সংসার চলে আব্দুল আলিমের

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

এখন হেমন্তকাল। চলনবিলে পানি কমতে শুরু করেছে। বিলজুড়ে এখনো ফুটে আছে অসংখ্য শাপলা। কোথাও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে ঢ্যাপ ও শালুক। প্রকৃতির এই সহজলভ্য সম্পদ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন অনেক দরিদ্র মানুষ। তাঁদেরই একজন আব্দুল আলিম (৪২)। কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি চলনবিলের শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক বিক্রি করেই বছরের একটি বড় সময় সংসারের খরচ জোগান তিনি।

আব্দুল আলিমের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার জগৎপুর গ্রামে। প্রতিদিন সকালে সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সবজি বাজারে বসে শাপলা ও ঢ্যাপ বিক্রি করেন তিনি। অল্প দামে এসব দেশি জলজ সবজি কিনতে বাজারে আসেন নানা বয়সী মানুষ। মাছ ও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি চলনবিলের শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুকেরও রয়েছে আলাদা কদর।


বাজারে কথা হয় আব্দুল আলিমের সঙ্গে। নিজের জীবন-জীবিকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বছর কৃষিশ্রমিকের কাজ করি। বর্ষার চার মাস বিল থেকে শাপলা, কখনো ঢ্যাপ, আবার কখনো শালুক তুলে হাটবাজারে বিক্রি করি। যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।’

বাজারে তাঁর বিক্রির দৃশ্যও বেশ সাদামাটা। সাত থেকে দশটি ঢ্যাপের আঁটি বিক্রি করছেন ১০ টাকায়। আর ১০টি শাপলার আঁটির দামও ১০ টাকা। সামান্য এই পুঁজি ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করেই চলে তাঁর জীবন ও জীবিকা। 


আব্দুল আলিম জানান, সকালে বাজারে পণ্য বিক্রি শেষ করে দুপুরের পর আবার বিলে যান । সন্ধ্যা পর্যন্ত বিল থেকে শাপলা, ঢ্যাপসহ বিভিন্ন জলজ সবজি সংগ্রহ করেন। পরে বাড়িতে ফিরে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আঁটি বাঁধেন। পরদিন সকালে সেই আঁটি নিয়ে হাজির হন বাজারে। এভাবেই চলে তাঁর প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা।তিনি বলেন, যাতায়াতের ভ্যানভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে কোনো কোনো দিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় থাকে। তবে প্রতিদিন এমন আয় হয় না। সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন এই কাজ করে আয় করতে পারেন তিনি। বাকি সময় কৃষিশ্রমিকের কাজ করেন।বাজারে শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ছোটবেলায় বিলে শাপলা তুলেছি, শালুক তুলেছি। এখন সেসব স্মৃতি। বিলের সেই শাপলা, ঢ্যাপ ও শালুক অল্প টাকায় কিনতে পারছি। ভালোই লাগছে।’একই বাজারে শাপলা ও ঢ্যাপ কিনতে এসেছেন কলেজশিক্ষার্থী আরমান। তিনি বলেন, ‘শাপলার সবজি রান্না করে খেতে আমার বাবা-মা খুব পছন্দ করেন। তাই তিন আঁটি শাপলা আর দুই আঁটি ঢ্যাপ কিনেছি।’


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত