ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

অডিট ম্যানেজে বসরতউল্লাহর ‘ভারী খাম’: চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতির বিস্ফোরণ



অডিট ম্যানেজে বসরতউল্লাহর ‘ভারী খাম’: চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতির বিস্ফোরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি-অনিয়ম ঢাকতে অডিট দলের জন্য বরাদ্দ ঘুষের খামটা এবার একটু বেশিই ভারী। কারণ কোনোভাবে এই অডিট পার করতে পারলেই অবসরে যেতে পারে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুর্নীতির মূল হোতা মো. বসরতউল্লাহ। তিনি দুর্নীতির টাকায় চরফ্যাশন গড়ে তুলেছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। একই হাসপাতালে যোগদান করে সেখান থেকেই অবসরে যাওয়ার এই নজিরবিহীন ঘটনা এবং এর আড়ালে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সাম্রাজ্য নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এখন সবার চোখ এবারের অডিট কমিটির দিকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের এমএসআর টেন্ডারের কাজ ইএন ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে পাইয়ে দিতে সরাসরি ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এই কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেয় ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা, যার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা নগদে এবং বাকি ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা চেকে গ্রহণ করেন প্রধান সহকারী মো. বসরতউল্লাহ।

২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ই.ডি.সি.এল ঔষধের প্রথম কিস্তির চালান নিয়ে বর্তমানে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। চালানটি হাসপাতালে পৌঁছালেও স্টোর লেজারে সেই ঔষধের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। সরকারি ঔষধের এই বিশাল চালান কোথায় গায়েব হলো, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালটির দুর্নীতির শেকড় কত গভীরে, তার প্রমাণ মেলে ২০২১-২২ অর্থ বছরের একটি ঘটনায়। সে সময় এমএসআর সরবরাহকারী মেসার্স মুন্নি ট্রেডার্সের ৫টি ইনজেকশন আইটেম বাবদ নগদ ৬৮ হাজার টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্রহণ করা হয়।

চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই টাকা গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ নোট ব্যবহার করা হয় যেখানে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশের কথা উল্লেখ রয়েছে। হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডা. মাহবুব কবির এই লেনদেনের বিষয়টি অবহিত আছেন মর্মে সীল ও স্বাক্ষর প্রদান করেছিলেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে কার পকেটে গেছে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা সাক্ষী হওয়া সেই সময়ের আরএমও ডা. মাহবুব কবির বর্তমানে একই হাসপাতালে পদ-অবনতি হয়ে সাধারণ মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। একজন দক্ষ কর্মকর্তার এই রহস্যজনক পদ-অবনতি হাসপাতালের অভ্যন্তরে এক ভীতিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

অভিযোগের পাহাড় কেবল টেন্ডার বা মালামাল কেনাকাটাতেই সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতালের সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর যে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে, তা নিয়েও রয়েছে হরিলুটের অভিযোগ। সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে হাসপাতালের দৃশ্যমান কোনো সংস্কার না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিবছরই এই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমনকি রোগীদের ডায়েট বা খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা ও কমিশন গ্রহণ করে এই সিন্ডিকেট। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মূল হোতা মো. বসরতউল্লাহ। তার মাধ্যমেই হাসপাতালের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হয় বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডাঃ শোভন কুমার বসাক বলেন, কোনো অনিয়ম হলে এটা অডিট কমিটি দেখবে আর চেকের বিষয়টি জানে বসরতউল্লাহ।

অন্যদিকে বসরতউল্লাহ জানান যে, চেকের টাকা গ্রহণ করে  হাসপাতালের জন্য কেনা-কাটা করেছি। আমি এর বেশিকিছু বলতে পারবো না।

এছাড়াও হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও দালাল নির্ভর। প্রেসক্রিপশন নিয়েও চলে টানাটানি। দালাল চক্র সব চেম্বারে ঘাপটি মেরে বসে আছে, কারো নিস্তার নেই। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—এই অনিয়মে কারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে? এসব অনিয়মের তদন্ত নিয়ে এখন এলাকার সচেতন মহল তাকিয়ে আছে অডিট টিমের দিকে ।

 এই অনুসন্ধানের প্রথম পর্বের মাধ্যমে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল এক ভয়াবহ বাস্তবতার সূচনা। ৩ পর্বের ধারাবাহীক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—অপেক্ষায় থাকুন।

ভিশন বাংলা ২৪

রোববার, ১০ মে ২০২৬


অডিট ম্যানেজে বসরতউল্লাহর ‘ভারী খাম’: চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতির বিস্ফোরণ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি-অনিয়ম ঢাকতে অডিট দলের জন্য বরাদ্দ ঘুষের খামটা এবার একটু বেশিই ভারী। কারণ কোনোভাবে এই অডিট পার করতে পারলেই অবসরে যেতে পারে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুর্নীতির মূল হোতা মো. বসরতউল্লাহ। তিনি দুর্নীতির টাকায় চরফ্যাশন গড়ে তুলেছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। একই হাসপাতালে যোগদান করে সেখান থেকেই অবসরে যাওয়ার এই নজিরবিহীন ঘটনা এবং এর আড়ালে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সাম্রাজ্য নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এখন সবার চোখ এবারের অডিট কমিটির দিকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের এমএসআর টেন্ডারের কাজ ইএন ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে পাইয়ে দিতে সরাসরি ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এই কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেয় ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা, যার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা নগদে এবং বাকি ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা চেকে গ্রহণ করেন প্রধান সহকারী মো. বসরতউল্লাহ।

২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ই.ডি.সি.এল ঔষধের প্রথম কিস্তির চালান নিয়ে বর্তমানে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। চালানটি হাসপাতালে পৌঁছালেও স্টোর লেজারে সেই ঔষধের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। সরকারি ঔষধের এই বিশাল চালান কোথায় গায়েব হলো, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালটির দুর্নীতির শেকড় কত গভীরে, তার প্রমাণ মেলে ২০২১-২২ অর্থ বছরের একটি ঘটনায়। সে সময় এমএসআর সরবরাহকারী মেসার্স মুন্নি ট্রেডার্সের ৫টি ইনজেকশন আইটেম বাবদ নগদ ৬৮ হাজার টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্রহণ করা হয়।

চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই টাকা গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ নোট ব্যবহার করা হয় যেখানে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশের কথা উল্লেখ রয়েছে। হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডা. মাহবুব কবির এই লেনদেনের বিষয়টি অবহিত আছেন মর্মে সীল ও স্বাক্ষর প্রদান করেছিলেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে কার পকেটে গেছে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা সাক্ষী হওয়া সেই সময়ের আরএমও ডা. মাহবুব কবির বর্তমানে একই হাসপাতালে পদ-অবনতি হয়ে সাধারণ মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। একজন দক্ষ কর্মকর্তার এই রহস্যজনক পদ-অবনতি হাসপাতালের অভ্যন্তরে এক ভীতিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

অভিযোগের পাহাড় কেবল টেন্ডার বা মালামাল কেনাকাটাতেই সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতালের সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর যে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে, তা নিয়েও রয়েছে হরিলুটের অভিযোগ। সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে হাসপাতালের দৃশ্যমান কোনো সংস্কার না হলেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিবছরই এই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমনকি রোগীদের ডায়েট বা খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের কাছ থেকেও নিয়মিত মাসোয়ারা ও কমিশন গ্রহণ করে এই সিন্ডিকেট। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মূল হোতা মো. বসরতউল্লাহ। তার মাধ্যমেই হাসপাতালের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হয় বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডাঃ শোভন কুমার বসাক বলেন, কোনো অনিয়ম হলে এটা অডিট কমিটি দেখবে আর চেকের বিষয়টি জানে বসরতউল্লাহ।

অন্যদিকে বসরতউল্লাহ জানান যে, চেকের টাকা গ্রহণ করে  হাসপাতালের জন্য কেনা-কাটা করেছি। আমি এর বেশিকিছু বলতে পারবো না।

এছাড়াও হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও দালাল নির্ভর। প্রেসক্রিপশন নিয়েও চলে টানাটানি। দালাল চক্র সব চেম্বারে ঘাপটি মেরে বসে আছে, কারো নিস্তার নেই। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—এই অনিয়মে কারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে? এসব অনিয়মের তদন্ত নিয়ে এখন এলাকার সচেতন মহল তাকিয়ে আছে অডিট টিমের দিকে ।

 এই অনুসন্ধানের প্রথম পর্বের মাধ্যমে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল এক ভয়াবহ বাস্তবতার সূচনা। ৩ পর্বের ধারাবাহীক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—অপেক্ষায় থাকুন।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত