অপরাধীর কোনো ধর্ম নেই, আইনের চোখে সবাই সমান: থালাপতি
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন থালাপতি। তিনি বলেছেন, কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না; অপরাধই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে থালাপতি বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। কেউ যদি অপরাধ করে, তাহলে সে কোন ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের—তা দেখা হবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
তিনি বলেন, সমাজে একটি শ্রেণি ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
থালাপতি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। কোনো ঘটনা ঘটলে যাচাই-বাছাই ছাড়া তা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি গুজব কখনও কখনও বড় ধরনের সংঘাতের কারণ হতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে অপরাধ করলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবার জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে থালাপতি বলেন, দেশের ঐতিহ্যই হচ্ছে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। সেই ঐতিহ্য নষ্ট করার যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি ধর্মীয় নেতাদেরও দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সহিংসতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে থালাপতির এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে আইন প্রয়োগে বৈষম্যের অভিযোগের মধ্যে এমন অবস্থান জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কেবল বক্তব্য দিলেই হবে না, বাস্তব ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ দমনের নামে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থালাপতির বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই যদি বিচার্যের মূল বিষয় হয়, তাহলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে আস্থা বাড়বে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও কমে আসবে। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব।