লৌহজংয়ে ওমর ফারুক অবাককে ঘিরে বিতর্ক
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের নওপাড়া বাজারে দীর্ঘদিন ধরে খাজনার নামে অবৈধ অর্থ আদায়, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওমর ফারুক ওরফে “অবাক”। স্থানীয়দের দাবি, বাজারে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও প্রতিপক্ষের ওপর ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির রাজনীতি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ওমর ফারুক অবাক বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নওপাড়া বাজারে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নতুন করে আলোচনায় আসে তার কর্মকাণ্ড।
এদিকে বৌলতলী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম বেপারীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও উঠেছে অবাক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে সিরাজদিখান থানা পুলিশের মাধ্যমে জসিম বেপারীকে মাদকসহ আটক করানো হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, নওপাড়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে জসিম বেপারীকে বাধা মনে করেই এই কৌশল নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জসিম বেপারী মিজানুর রহমান সিনহার অনুসারী হওয়ায় তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, প্রথমদিকে বিষয়টি সমঝোতার পর্যায়ে গেলেও পরে “উচ্চ পর্যায়” থেকে ফোন আসার পর পুলিশের আচরণ বদলে যায়। পরে জসিম বেপারীকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং দলীয় পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে নওপাড়া বাজারে ইজারা ছাড়াই খাজনার নামে প্রতিদিন টাকা উত্তোলনের অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, লৌহজং ভূমি অফিসের এক নায়েবের নির্দেশের কথা বলে তাহের মোল্লা নামে এক ব্যক্তি বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে প্রতিদিন টাকা আদায় করছেন। তবে এ অর্থ আদায়ের বিপরীতে কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।
বাজারের ব্যবসায়ী সুবল মন্ডল, হানিফ সরদার, আব্দুল রউফ শেখ, জুলহাস সরদার, জহিরুল বেপারীসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মাছ, কাঁচাবাজার ও ফলের দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কারও কাছ থেকে ৪০ টাকা, কারও কাছ থেকে ৫০ বা ১০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো সরকারি কাগজপত্র দেখানো হয় না।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, “সরকারি নিয়মে খাজনা আদায় হলে অবশ্যই রশিদ থাকার কথা। কিন্তু এখানে কোনো রশিদ নেই। তাহলে এই টাকা কোথায় যাচ্ছে?” তাদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। সে হিসাবে মাসে প্রায় দেড় লাখ এবং বছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ হচ্ছে, যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে বছরের পর বছর অবৈধ অর্থ আদায়ের ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন। বাজারের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের নিরব ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।