বাড়িঘর ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট, এলাকায় চরম উত্তেজনা
মাধবদীতে প্রবাসীর বাড়িতে ৪-৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসী হামলা, নারীসহ আহত ১২
নরসিংদীর মাধবদীতে চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা নারীসহ অন্তত ১২ গ্রামবাসীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল আনুমানিক আড়াইটার দিকে মাধবদী থানার ছোট মাধবদী এলাকায় এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইট-বালির সিন্ডিকেট ও চাঁদা দাবি
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট মাধবদী এলাকার প্রবাসী হাফেজ ও শরিফের মালিকানাধীন জায়গায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত নাজু মিয়ার ছেলে সেলিম (৪২), লতিফ, নজু ও ফারুকের নেতৃত্বে একটি চক্র তাদের সিন্ডিকেট থেকে নিম্নমানের ইট ও বালি কেনার জন্য প্রবাসীর পরিবারকে চাপ দিয়ে আসছিল। প্রবাসীর স্বজনরা বাজারমূল্যের চেয়ে চড়া দামে ওই সিন্ডিকেটের সামগ্রী কিনতে অস্বীকৃতি জানালে, অভিযুক্তরা সরাসরি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং কাজ বন্ধ রাখার হুমকি দেয়।
প্রকাশ্য দিবালোকে তাণ্ডব ও লুটপাট
চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শুক্রবার বিকেলে সেলিম ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে ওই প্রবাসীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা নির্মাণাধীন ভবন ও ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়।
অভিযোগ উঠেছে, তাণ্ডব চলাকালীন সন্ত্রাসীরা ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র ভেঙে ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার এবং একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়।
আহতদের তালিকা:
সন্ত্রাসীদের এই আকস্মিক হামলায় বাধা দিতে গেলে প্রতিবেশী খুরশেদ, রুকসানা, শুশান্ত, নুরজাহান, মুরশেদ, হনুফা, তাজিম, শিরিনা, আইনাল হক, ফরিদা, জুবায়ের ও জুনায়েদসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর জখম হন।
অভিযুক্তদের নীরবতা ও পুলিশের বক্তব্য
হামলা ও লুটপাটের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সেলিম ও তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ঘটনার পর থেকে তারা এলাকাছাড়া বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জানতে চাইলে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান:
"ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। তবে এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।