ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন! দামেও খুশি কৃষক



সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন! দামেও খুশি কৃষক

নাটোরের সিংড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন পাট চাষীদের  জিরোনোর সময় নেই কারো। ডোবা-নালায় পাট পচানো, নদী ও বিলেে ঘাটে পাট ধোয়া আর উঠোনজুড়ে রোদে সোনালী আঁশ শুকানোর ব্যস্ততা। বাতাসে কাঁচা পাটের সুবাস আর কৃষকের মুখে এক চিলতে স্বস্তির হাসি বলে দিচ্ছে—এবার ‘সোনালী আঁশ’ তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে এনেছে। সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন ও চড়া দামে অধিকাংশ কৃষকের দিন কাটছে বেশ আনন্দে।

​চলতি মৌসুমে উপজেলার চামারী ও লালোর ইউনিয়নসহ  বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। বর্তমানে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা দরে। আর বিঘাপ্রতি পাওয়া যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত আঁশ।

​উপজেলার লালোর গ্রামের সফল পাটচাষী নুরুজ্জামান  বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার ফলন অনেক ভালো পাইছি। দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে বিঘায় প্রায় ৯ মণ কইরা পাইছি। সার, সেচ আর শ্রমিক সব মিলিয়ে খরচ হইছে ২৭ হাজার টাকার মতো। আর দুই বিঘা থেকে পাওয়া ১৮ মণ পাট বেচে দাম আসবে প্রায় ৬৩ থেকে ৭২ হাজার টাকা! সব খরচ বাদ দিয়েও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার সুদে-আসলে উঠে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।”

​ সিংড়ার সর্ববৃহৎ পাটের বাজার ‘হাদিয়ান্দ হাটের’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পাটের কালার ও মান খুব চমৎকার। ভালো জাত ও আঁশের উজ্জ্বলতাভেদে আমরা বর্তমানে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় প্রতি মণ পাট কিনছি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবার আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারছি।”

​তবে আনন্দের এই জোয়ারে সামান্য দুশ্চিন্তার ভাঁজও আছে কিছু নিম্নঞ্চলের কৃষকের কপালে। নিচু জমিতে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শ্রমিকের মজুরি গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ। 

লালোর ইউনিয়নের মাজগাতী গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক অনিল চন্দ্র আক্ষেপ করে বলেন, “দেড় বিঘা জমির পাট পানির নিচে  ডুবে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাট কাটার জন্যই শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে  ৭০০ টাকা হাজিরা। আঁশ ছাড়ানো আর ধোয়ার খরচও দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে এবার হয়তো দুই-তিন হাজার টাকা লোকসান হবে আমার।”

​অন্যদিকে, পাটের এই ভরা মৌসুমে গ্রামীণ নারীদের কাজের সংস্থানও তৈরি হয়েছে। পাট খড়ির বিনিময়ে গৃহস্থের বাড়িতে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন স্থানীয় আলেয়া বেগমের মতো অনেকে। হাসিমুখে আলেয়া বলেন, এক মাস কষ্ট করে কাজ করলে যে পাটখড়ি পামু, তা দিয়ে অন্তত ৬ মাসের রান্নার জ্বালানি হয়ে যাবে। বাড়তি পাটখড়ি বেচে বাজারে দু-এক পয়সা আয়ও করা যাবে।

​কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। 

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন,চলতি মৌসুমে সিংড়ায় ১ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ও মান দুই-ই চমৎকার। পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট ‘জাগ’ দিতে কৃষকদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। নিচু জমির সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও বেশিরভাগ কৃষকই এবার লাভবান হচ্ছেন। আমরা সার্বিক পরামর্শ ও কৃষি প্রণোদনা নিয়ে কৃষকের পাশে আছি। আশা করছি, পাটের এই ভালো দাম আগামীতেও বজায় থাকবে।

ভিশন বাংলা ২৪

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন! দামেও খুশি কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নাটোরের সিংড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন পাট চাষীদের  জিরোনোর সময় নেই কারো। ডোবা-নালায় পাট পচানো, নদী ও বিলেে ঘাটে পাট ধোয়া আর উঠোনজুড়ে রোদে সোনালী আঁশ শুকানোর ব্যস্ততা। বাতাসে কাঁচা পাটের সুবাস আর কৃষকের মুখে এক চিলতে স্বস্তির হাসি বলে দিচ্ছে—এবার ‘সোনালী আঁশ’ তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে এনেছে। সিংড়ায় পাটের বাম্পার ফলন ও চড়া দামে অধিকাংশ কৃষকের দিন কাটছে বেশ আনন্দে।


​চলতি মৌসুমে উপজেলার চামারী ও লালোর ইউনিয়নসহ  বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। বর্তমানে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা দরে। আর বিঘাপ্রতি পাওয়া যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত আঁশ।


​উপজেলার লালোর গ্রামের সফল পাটচাষী নুরুজ্জামান  বলেন, “গত বছরের চেয়ে এবার ফলন অনেক ভালো পাইছি। দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করে বিঘায় প্রায় ৯ মণ কইরা পাইছি। সার, সেচ আর শ্রমিক সব মিলিয়ে খরচ হইছে ২৭ হাজার টাকার মতো। আর দুই বিঘা থেকে পাওয়া ১৮ মণ পাট বেচে দাম আসবে প্রায় ৬৩ থেকে ৭২ হাজার টাকা! সব খরচ বাদ দিয়েও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার সুদে-আসলে উঠে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।”


​ সিংড়ার সর্ববৃহৎ পাটের বাজার ‘হাদিয়ান্দ হাটের’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পাটের কালার ও মান খুব চমৎকার। ভালো জাত ও আঁশের উজ্জ্বলতাভেদে আমরা বর্তমানে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় প্রতি মণ পাট কিনছি। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবার আমরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারছি।”


​তবে আনন্দের এই জোয়ারে সামান্য দুশ্চিন্তার ভাঁজও আছে কিছু নিম্নঞ্চলের কৃষকের কপালে। নিচু জমিতে আগাম বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় শ্রমিকের মজুরি গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ। 


লালোর ইউনিয়নের মাজগাতী গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক অনিল চন্দ্র আক্ষেপ করে বলেন, “দেড় বিঘা জমির পাট পানির নিচে  ডুবে গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাট কাটার জন্যই শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে  ৭০০ টাকা হাজিরা। আঁশ ছাড়ানো আর ধোয়ার খরচও দ্বিগুণ। সব মিলিয়ে এবার হয়তো দুই-তিন হাজার টাকা লোকসান হবে আমার।”


​অন্যদিকে, পাটের এই ভরা মৌসুমে গ্রামীণ নারীদের কাজের সংস্থানও তৈরি হয়েছে। পাট খড়ির বিনিময়ে গৃহস্থের বাড়িতে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন স্থানীয় আলেয়া বেগমের মতো অনেকে। হাসিমুখে আলেয়া বলেন, এক মাস কষ্ট করে কাজ করলে যে পাটখড়ি পামু, তা দিয়ে অন্তত ৬ মাসের রান্নার জ্বালানি হয়ে যাবে। বাড়তি পাটখড়ি বেচে বাজারে দু-এক পয়সা আয়ও করা যাবে।

​কৃষকদের সার্বিক সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। 

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন,চলতি মৌসুমে সিংড়ায় ১ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ও মান দুই-ই চমৎকার। পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবার পাট ‘জাগ’ দিতে কৃষকদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। নিচু জমির সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও বেশিরভাগ কৃষকই এবার লাভবান হচ্ছেন। আমরা সার্বিক পরামর্শ ও কৃষি প্রণোদনা নিয়ে কৃষকের পাশে আছি। আশা করছি, পাটের এই ভালো দাম আগামীতেও বজায় থাকবে।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত