প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
রুবেলের চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায় অতিষ্ঠ ডেমরার বড়-ভাঙাবাসী
রাজধানীর ডেমরা থানাধীন বড় ভাঙা ও মহাকাশ রোড এলাকায় রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, হামলা এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুক্তার ও তার ছোট ভাই পাচ্চি রুবেল ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভাসমান ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণকারীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কিছুদিন আগে এক ভ্যানচালকের কাছে চাঁদা দাবি করা হলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এছাড়া পাচ্চি রুবেল কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা আরও দাবি করেন, তিনি নিজেকে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের এক নেতার ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পাচ্চি রুবেল আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন। ফলে অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, রুবেলের বিরুদ্ধে ডেমরাসহ বিভিন্ন থানায় মাদক ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের আশ্রয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি অন্য রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর একাংশ তাকে গণপিটুনি দেয়।
এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনার কারণে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা শিথিলতা দেখা দিয়েছে। সেই সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে তাদের অভিযোগ।
এ বিষয়ে রুবেল বা তার সহযোগীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।