মধুপুরে মনসাপূজা ও বেহুলা গান উৎসব অনুষ্ঠিত
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের শালিকা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুদিনব্যাপী গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বেহুলা গান উৎসব এবং শ্রী শ্রী মনসাদেবী ও অষ্টনাগ পূজা। প্রয়াত ওস্তাদ নুরুল আমিন আকন্দের স্মরণে গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট শালিকা বাজারের খালেক প্রি-ক্যাডেট স্কুল মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের পরিচালক শ্রী শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, প্রয়াত ওঝা নুরুল আমিন ফকির তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিবছর বাংলা সনের শ্রাবণ মাসের শেষ দিন নিজ বাড়িতে বেহুলা গানের আসর জমাতেন এবং আমৃত্যু মানবসেবা করে গেছেন। ২০১৭ সালের ১লা জুন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সে সময় গ্রামের হিন্দু-মুসলিম সকলে মিলে তাঁর অন্তিম যাত্রায় শরিক হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর ছোট ছেলে রুহুল আমিনকে এসবের অনেক কিছু শিখিয়ে যান। এরপর থেকে বাবার দেখানো পথে ছেলে রুহুল আমিন প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের শেষদিন এই বেহুলা গানের আয়োজন করে আসছেন এবং মনসার ডালা ভাসাচ্ছেন।
বাবার সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই রুহুল আমিন আকন্দের উদ্যোগে এবারের এই বড় আয়োজন, যেখানে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এ বিষয়ে আয়োজক রুহুল আমিন আকন্দ বলেন, "এ অনুষ্ঠান আমার রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। আমার বাবা প্রয়াত ওস্তাদ নুরুল আমিন আকন্দ এ এলাকার বেহুলা গানের ওস্তাদ ছিলেন, সবাই তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতি ধরে রাখা এবং এ অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতায় আমি এ আয়োজন করে আসছি।"
অনুষ্ঠানের সভাপতি ডাঃ মোঃ হাফিজ উদ্দিন দলগত ঐক্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, "ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ঢলুয়াপাড়া, গর্জনাপাড়া ও গড়ানচালা এবং মধুপুরের শালিকা গ্রাম মিলে আমাদের এই দল। আমাদের এই ঐক্যের কারণেই আমরা অনেক বছর ধরে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে করে আসছি। এটি মূলত গ্রামীণ চিকিৎসা পদ্ধতি ও ঐতিহ্য।"
এলাকাবাসীরা জানান, বেহুলা গান পরিবেশনের পাশাপাশি উৎসবের শেষ পর্বে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে সাপে কাটা ও বিভিন্ন বিষে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই আয়োজন এখন স্থানীয়দের কাছে অন্যতম একটি বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে।