ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

চট্টলা এক্সপ্রেসে টিকিটবিহীন অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ভাগাভাগি নিয়ে টিটিইদের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন


ফালু মিয়া
ফালু মিয়া ​বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টলা এক্সপ্রেসে টিকিটবিহীন অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ভাগাভাগি নিয়ে টিটিইদের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেন চট্টলা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট বা বৈধ রসিদ না দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষকদের (টিটিই) বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের পরও অনেক যাত্রীকে টিকিট বা অর্থ গ্রহণের প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। কেউ রসিদ চাইলে তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা জরিমানার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও সামনে এসেছে। এমনকি যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন যাত্রী। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং রেলওয়ের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন। ফলে ট্রেনটির টিকিট ব্যবস্থাপনা, ভাড়া আদায় এবং যাত্রীসেবার স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা শুধু কয়েকজন যাত্রীর ভোগান্তির বিষয় থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের আর্থিক জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনামের প্রশ্ন। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দিতে পারে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনের ভেতরে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়ার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বৈধ টিকিট বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়া দেওয়ার পর টিকিট চাইলে কোনো কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী টিকিটের প্রয়োজন নেই বলে আশ্বস্ত করেন। আবার কেউ নিয়ম মেনে টিকিট বা রসিদ চাইলে তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ কিংবা জরিমানার মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখানো হয় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন যাত্রী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট টিকিট, অর্থ গ্রহণের নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পর সেই টাকা কার কাছে কত থাকবে, তা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিটিইদের মধ্যে প্রকাশ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীর দাবি, যাত্রীদের সামনেই অর্থের ভাগ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও অশোভন কথাবার্তা হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা দায়িত্ব পালনের শৃঙ্খলা ও যাত্রীদের প্রতি পেশাদার আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে কথিত অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা অপরিহার্য।

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে বৈধ টিকিট বা প্রযোজ্য অর্থ পরিশোধের প্রমাণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো যাত্রী টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করলে বিধি অনুযায়ী ভাড়া ও প্রযোজ্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে। কিন্তু সেই অর্থ যথাযথভাবে গ্রহণ, হিসাবভুক্ত করা এবং নিয়ম অনুযায়ী টিকিট বা রসিদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে, কোনো যাত্রীর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হলে তার আইনগত ও বিধিবদ্ধ ভিত্তি থাকতে হবে। তাই চট্টলা এক্সপ্রেসে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে কোন যাত্রীর কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তার বিপরীতে কী নথি দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ রেলওয়ের হিসাবে জমা পড়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অভিযোগের আরেকটি দিক হলো, অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক টিটিই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয় এবং তিনি অনেক সাংবাদিক দেখেছেন। তবে বক্তব্যটির স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া নেওয়া প্রয়োজন। কোনো অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উচিত তথ্যভিত্তিক জবাব দেওয়া এবং তদন্তের প্রয়োজনে সহযোগিতা করা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমীচীন নয়।

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যাত্রীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের হিসাব কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ের নির্ধারিত পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি ও ভাড়া আদায়ের তথ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ডিউটি তালিকা, টিকিট ইস্যুর রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবপত্র মিলিয়ে দেখলে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। নির্দিষ্ট যাত্রার সময়, বগি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পরিচয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা করা হলে তদন্ত আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি অভিযোগের সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ, যদি থাকে, এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

রেলওয়ের যাত্রীসেবা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে। দূরপাল্লার ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, দায়িত্ব পালনের সময় টিটিইদের জন্য বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় ও রসিদ প্রদানের ব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রী ও কর্মী—উভয় পক্ষের নিরাপত্তা বাড়বে এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে তথ্যপ্রমাণ যাচাই সহজ হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাত্রীদের প্রত্যাশা, চট্টলা এক্সপ্রেসে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ, সরকারি পরিবহনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জরুরি, তেমনি ন্যায়সংগত তদন্ত ও জবাবদিহিও অপরিহার্য।

চট্টলা এক্সপ্রেসে টিকিট ও রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের অভিযোগ তাই কেবল যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নয়; এটি রেলওয়ের রাজস্ব, সেবার মান এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে যাত্রীদের আস্থা বাড়বে এবং সরকারি পরিবহনব্যবস্থায় অনিয়ম প্রতিরোধের পথ আরও সুসংহত হবে।

আমার প্রতিবেদনের পুনরুক্তি কমিয়ে দিনআমার প্রতিবেদনে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জায়গা রাখুন

ভিশন বাংলা ২৪

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


চট্টলা এক্সপ্রেসে টিকিটবিহীন অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ভাগাভাগি নিয়ে টিটিইদের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেন চট্টলা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট বা বৈধ রসিদ না দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষকদের (টিটিই) বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের পরও অনেক যাত্রীকে টিকিট বা অর্থ গ্রহণের প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। কেউ রসিদ চাইলে তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা জরিমানার ভয় দেখিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও সামনে এসেছে। এমনকি যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন যাত্রী। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং রেলওয়ের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা জরুরি হয়ে উঠেছে।


প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন। ফলে ট্রেনটির টিকিট ব্যবস্থাপনা, ভাড়া আদায় এবং যাত্রীসেবার স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা শুধু কয়েকজন যাত্রীর ভোগান্তির বিষয় থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের আর্থিক জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনামের প্রশ্ন। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দিতে পারে।


ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনের ভেতরে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়ার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বৈধ টিকিট বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়া দেওয়ার পর টিকিট চাইলে কোনো কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী টিকিটের প্রয়োজন নেই বলে আশ্বস্ত করেন। আবার কেউ নিয়ম মেনে টিকিট বা রসিদ চাইলে তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ কিংবা জরিমানার মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখানো হয় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন যাত্রী। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট টিকিট, অর্থ গ্রহণের নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।


আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পর সেই টাকা কার কাছে কত থাকবে, তা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিটিইদের মধ্যে প্রকাশ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীর দাবি, যাত্রীদের সামনেই অর্থের ভাগ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও অশোভন কথাবার্তা হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা দায়িত্ব পালনের শৃঙ্খলা ও যাত্রীদের প্রতি পেশাদার আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে কথিত অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা অপরিহার্য।


রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে বৈধ টিকিট বা প্রযোজ্য অর্থ পরিশোধের প্রমাণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো যাত্রী টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করলে বিধি অনুযায়ী ভাড়া ও প্রযোজ্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে। কিন্তু সেই অর্থ যথাযথভাবে গ্রহণ, হিসাবভুক্ত করা এবং নিয়ম অনুযায়ী টিকিট বা রসিদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে, কোনো যাত্রীর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হলে তার আইনগত ও বিধিবদ্ধ ভিত্তি থাকতে হবে। তাই চট্টলা এক্সপ্রেসে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে কোন যাত্রীর কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তার বিপরীতে কী নথি দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ রেলওয়ের হিসাবে জমা পড়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।


অভিযোগের আরেকটি দিক হলো, অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক টিটিই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয় এবং তিনি অনেক সাংবাদিক দেখেছেন। তবে বক্তব্যটির স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া নেওয়া প্রয়োজন। কোনো অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উচিত তথ্যভিত্তিক জবাব দেওয়া এবং তদন্তের প্রয়োজনে সহযোগিতা করা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমীচীন নয়।


এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যাত্রীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের হিসাব কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। রেলওয়ের নির্ধারিত পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি ও ভাড়া আদায়ের তথ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ডিউটি তালিকা, টিকিট ইস্যুর রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবপত্র মিলিয়ে দেখলে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। নির্দিষ্ট যাত্রার সময়, বগি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পরিচয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা করা হলে তদন্ত আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি অভিযোগের সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ, যদি থাকে, এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।


রেলওয়ের যাত্রীসেবা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি রাখে। দূরপাল্লার ট্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, দায়িত্ব পালনের সময় টিটিইদের জন্য বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় ও রসিদ প্রদানের ব্যবস্থা জোরদার করা যেতে পারে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রী ও কর্মী—উভয় পক্ষের নিরাপত্তা বাড়বে এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে তথ্যপ্রমাণ যাচাই সহজ হবে।


বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাত্রীদের প্রত্যাশা, চট্টলা এক্সপ্রেসে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ, সরকারি পরিবহনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জরুরি, তেমনি ন্যায়সংগত তদন্ত ও জবাবদিহিও অপরিহার্য।


চট্টলা এক্সপ্রেসে টিকিট ও রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের অভিযোগ তাই কেবল যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নয়; এটি রেলওয়ের রাজস্ব, সেবার মান এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে যাত্রীদের আস্থা বাড়বে এবং সরকারি পরিবহনব্যবস্থায় অনিয়ম প্রতিরোধের পথ আরও সুসংহত হবে।


আমার প্রতিবেদনের পুনরুক্তি কমিয়ে দিনআমার প্রতিবেদনে রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জায়গা রাখুন


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত