নরসিংদীতে চিংড়িতে জেলি পুশ
পাইকারি ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড, ১২৩ কেজি মাছ ধ্বংস
ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও মৎস্য পণ্যে ভেজাল রোধে নরসিংদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) ভোর ৬টায় নরসিংদী সদর উপজেলার বৌয়াকুড় এলাকার এমপি মার্কেটে অবস্থিত মাছের পাইকারি আড়তে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে চিংড়ি মাছে ক্ষতিকর ও অবৈধ জেলি পুশ করার অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় পরিমল দাস নামের এক পাইকারি ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত পরিমল দাস বৌয়াকুড় এলাকার ভরকা কান্ত দাসের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র চিংড়ির ওজন বাড়াতে কৃত্রিম জেলি পুশ করে বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ভোরে সেখানে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান।
অভিযানকালে মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০-এর ৩১(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে উক্ত ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাথে জেলিযুক্ত প্রায় ১২৩ কেজি বিষাক্ত চিংড়ি মাছ জব্দ করে জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানে প্রসিকিউশন কর্মকর্তা হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ১৩ মে নরসিংদী সদর উপজেলার বড়বাজার এলাকায় জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির দায়ে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছিল। নিবিড় অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মূলত আজকের দণ্ডপ্রাপ্ত পাইকারি ব্যবসায়ী পরিমল দাসের কাছ থেকেই উক্ত ভেজাল মৎস্য পণ্য সংগ্রহ করেছিলেন। ভেজালের মূল উৎস চিহ্নিত করেই আজ এই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এ ধরনের যেকোনো জালিয়াতি ও খাদ্যে ভেজালকরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।