ফুটপাত গিলে খাচ্ছেন শিল্পপতি কাদির মোল্লা, নীরব পৌর প্রশাসন!
নরসিংদীতে গাইড ওয়াল ভেঙে আলিশান ভবন নির্মাণ; ক্ষুব্ধ পথচারী, সড়ক দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকি
আইন অমান্য করে শহরের প্রধান সড়কের ফুটপাত দখল ও পৌরসভার গাইড ওয়াল ভেঙে রাজকীয় আলিশান ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী শিল্পপতি আবদুল কাদির মোল্লার বিরুদ্ধে। নরসিংদী শহরের প্রাণকেন্দ্র ডিসি রোড স্টেডিয়ামের উত্তর পাশে দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজ চললেও স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নরসিংদী পৌরসভার নির্মিত ফুটপাতের গাইড ওয়ালটি ভেঙে সম্প্রতি জায়গাটি জোরপূর্বক দখলে নেয় ওই প্রভাবশালী মহল। এরপর সেখানে সব ধরনের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করে একটি বহুতল ও দৃষ্টিনন্দন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।
ফুটপাতটি সম্পূর্ণ বেদখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ শত শত পথচারী এখন বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। এতে ডিসি রোডের মতো ব্যস্ততম সড়কে প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"ফুটপাত দখল করে এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি নরসিংদী পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কোনো এক শক্তির প্রভাবে পৌর প্রশাসন আজ ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে। দেশের সব জায়গায় যখন অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চলছে, তখন নরসিংদীর এই মহাসড়কে কার ইশারায় ফুটপাত গিলছে প্রভাবশালীরা?"
এর আগে নরসিংদীতে নদী ও রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান ও সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেলেও, বর্তমান এই প্রকাশ্য অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে সচেতন মহলে। অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জনসাধারণের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বক্তব্য মেলেনি অভিযুক্ত ও কর্মকর্তার:
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিল্পপতি আবদুল কাদির মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ফুটপাত দখল ও গাইড ওয়াল ভাঙার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—তা জানতে নরসিংদী পৌর প্রশাসক মোছা. নাদিরা আক্তারের মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।