ঢাকা    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
ভিশন বাংলা ২৪

একবারই স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ, জুলাই ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক হোসেন


জি.কে. ফাহিম
জি.কে. ফাহিম নিজস্ব প্রতিবেদক

একবারই স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ, জুলাই ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক হোসেন

বাংলাদেশ একবারই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সার্বভৌম ভূখণ্ড ও গর্বের জাতীয় পতাকা উপহার দিয়েছে। আর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল সেই স্বাধীনতার চেতনা, জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার রক্তাক্ত সংগ্রাম।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও সেই একই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব শুধু মানচিত্র বা সীমান্তের বিষয় নয়; বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। দেশীয় স্বৈরশক্তি কিংবা বিদেশি হস্তক্ষেপ—কোনোটির কাছেই বাংলাদেশ মাথা নত করবে না।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো, হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রের কাছে অনুগ্রহপ্রার্থী নন; বরং রাষ্ট্রই তাদের কাছে ঋণী। তিনি বলেন, এই ঋণ শোধ হবে সত্য প্রতিষ্ঠা, শহীদ পরিবারের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্নের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী, সহযোগী, আলামত নষ্টকারী ও অপরাধীদের পালাতে সহায়তাকারী—কেউই বিচারের বাইরে থাকবে না। বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি আংশিক নয়, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, অনেকেই দৃষ্টিশক্তি, হাত বা পা হারিয়েছেন কিংবা স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো আহত যোদ্ধা চিকিৎসাবঞ্চিত হবেন না এবং কোনো শহীদ পরিবার অবহেলিত থাকবে না বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত হতে দেওয়া হবে না। শহীদ ও আহতদের পরিচয়, সাক্ষ্য এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে পরাধীনতার কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা দিয়েছে, আর জুলাই আন্দোলন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে স্বাধীন দেশেও স্বৈরাচার ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দল বা বিদেশি শক্তির সম্পত্তি নয়; দেশের প্রকৃত মালিক বাংলাদেশের জনগণ।

ভিশন বাংলা ২৪

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


একবারই স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ, জুলাই ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই: ইশরাক হোসেন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ একবারই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সার্বভৌম ভূখণ্ড ও গর্বের জাতীয় পতাকা উপহার দিয়েছে। আর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল সেই স্বাধীনতার চেতনা, জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠার রক্তাক্ত সংগ্রাম।


বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও সেই একই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব শুধু মানচিত্র বা সীমান্তের বিষয় নয়; বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। দেশীয় স্বৈরশক্তি কিংবা বিদেশি হস্তক্ষেপ—কোনোটির কাছেই বাংলাদেশ মাথা নত করবে না।


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো, হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রের কাছে অনুগ্রহপ্রার্থী নন; বরং রাষ্ট্রই তাদের কাছে ঋণী। তিনি বলেন, এই ঋণ শোধ হবে সত্য প্রতিষ্ঠা, শহীদ পরিবারের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্নের মাধ্যমে।


তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী, সহযোগী, আলামত নষ্টকারী ও অপরাধীদের পালাতে সহায়তাকারী—কেউই বিচারের বাইরে থাকবে না। বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি আংশিক নয়, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, অনেকেই দৃষ্টিশক্তি, হাত বা পা হারিয়েছেন কিংবা স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো আহত যোদ্ধা চিকিৎসাবঞ্চিত হবেন না এবং কোনো শহীদ পরিবার অবহেলিত থাকবে না বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত হতে দেওয়া হবে না। শহীদ ও আহতদের পরিচয়, সাক্ষ্য এবং আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।


বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে পরাধীনতার কাছে মাথা নত না করার শিক্ষা দিয়েছে, আর জুলাই আন্দোলন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে স্বাধীন দেশেও স্বৈরাচার ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দল বা বিদেশি শক্তির সম্পত্তি নয়; দেশের প্রকৃত মালিক বাংলাদেশের জনগণ।


ভিশন বাংলা ২৪

Advisory Editor: Syed Shajahan Saju, Adviser: Advocate Shajan Majumder, Chief Editor: Tuhin Bhuiyan, Executive Editor: S.M. Kamal, Managing Editor: Bayzid Bostami, Asst. Editor: Sahara Moon, Asst. Editor: Azgar Ali
কপিরাইট © ২০২৬ ভিশন বাংলা ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত