রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
নীলফামারী প্রতিবেদক:
নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. ওহাবের বিরুদ্ধে দলীয় অফিস নির্মাণের জন্য সংগৃহীত অর্থ আত্মসাৎ, রাস্তার গাছ কেটে বিক্রি করা এবং নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষীচাপ ইউনিয়নে বিএনপির নিজস্ব কোনো দলীয় অফিস নেই। এ কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে অর্থ সংগ্রহ করে একটি দলীয় অফিস নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বিএনপি নেতা শহীদ গোলাম রাব্বানীর বাসস্থানের পাশেই অফিসটি নির্মাণ করা হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সংগৃহীত ওই অর্থের দায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ. ওহাব দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও দলীয় অফিস নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেননি। বরং তিনি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী-সমর্থকেরা আরও অভিযোগ করেন, দলীয় অফিসের টাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে আ. ওহাব বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি নানা মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করেছেন।
ইউনিয়নের কয়েকজন প্রবীণ নেতা-কর্মী দাবি করেন, ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বে থাকলেও অতীতে আ. ওহাবের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বিএনপি নেতা-কর্মীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি দলীয় অফিস নির্মাণের দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে তারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন। প্রয়োজনে তারা জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অনিয়মমুক্ত একটি রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে আরও চমকপ্রদ তথ্য আসছে আগামীকালের প্রতিবেদনে।